ওসির বিরুদ্ধে ৪৫০ কোটি টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগ

১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা ভারতে পাচার এবং সাড়ে ৪ কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের মাধ্যমে ভারতীয় চোরাই ও চোরাচালানের গবাদিপশুর হাট বসিয়ে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সিলেটের আলোচিত ওসি আহাদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সিলেটের স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা করেন এম মঈনুল হক বুলবুল নামে এক আইনজীবী। তার অভিযোগ, আদালত আমলে নিয়ে সিলেট দুর্নীতি দমন কমিশনকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অন্যতম আসামি পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুল আহাদ দুই মাস আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় যোগদান করেন। রবিবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননা দেন পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন। সম্মাননা পাওয়ার একদিন পরই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হলো। এর আগে তিনি কানাইঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। সেখানেই আবদুল আহাদ দুর্নীতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- পুলিশ ইন্সপেক্টার মো. আব্দুল আহাদ, কানাইঘাট উপজেলার দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন কাজল, দর্পনগর পশ্চিম গ্রামের জুনাবআলী ওরফে জুনাইরের ছেলে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা তাজিম উদ্দিন, দর্পনগর পশ্চিম গ্রামের জুনাব আলীর ছেলে জহিরুল ইসলাম জহির, দর্পনগর পশ্চিম গ্রামের বটল হাজির ছেলে মো, আবু রায়হান পভেল, মাছুগ্রাম গ্রামের উনু মিয়ার ছেলে এম মামুন উদ্দিন, দক্ষিণ কুয়রেরমাটি গ্রামের মুতলিব শেখের ছেলে শাহাব উদ্দিন, দর্পনগর পশ্চিম গ্রামের মৃত ফরিদ আলীর ছেলে মুসলিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সড়কের বাজার নামক স্থানে আব্দুল গফুর ওয়াকফ স্টেটের ভূমি ব্যবহার করে কানাইঘাট থানা পুলিশের সাবেক ওসি মো. আব্দুল আহাদের প্রত্যক্ষ মদদে আসামি দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন কাজল ও সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম মামুন উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে দিঘীরপাড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো আবু রায়হান পাভেলকে বাজারের হাসিল আদায়কারী সাজিয়ে জহিরুল ইসলাম জহির, শাহাব উদ্দিন ও মুসলিম উদ্দিন পুলিশ ও বিজিবির নামে ঘুষের টাকা আদায় করে সরকার ঘোষিত গবাদিপশুর হাটের বাইরে বেআইনি হাট বসান।

এ বাজারে ভারত থেকে গবাদিপশু চোরাচালান ও চোরাইভাবে আনতে বাংলাদেশি ৪৫০ কোটি টাকা আলী হোসেন কাজল ও তাজিম উদ্দিন তাদের নিযুক্ত লোকজন দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করেন। এ টাকা পাচার ও চোরাচালানের গবাদিপশুর হাট পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে সাড়ে ৪ কোটি টাকা এ অবৈধ বাজার থেকে আদায় করা হয়েছে।

মামলার বাদী এম মঈনুল হক বুলবুল জানান, গত ১ আগস্ট এ বাজারে কোরবানির পশু কিনতে গেলে তার কাছেও আসামিরা পুলিশের লাইনের (ঘুষ) নামে ৮০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে বিষয়টি কানাইঘাট থানার ওসিকে জানানো হয়। তিনি এর কোনো প্রতিকার না করে ম্যানেজ করে নেয়ার পরামর্শ দেন। এরপর এ ব্যাপারে ১৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট অফিসের গেলে তারা বাদীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব হুসাইন জানান, এটা একটি বড় দুর্নীতির মামলা। এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় চোরাচালানের গরুর হাট এটি। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে এ বাজার থেকে সিলেট ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাচালানের গরু প্রকাশ্যে বিনা বাধায় সরবরাহ করা হয়।

এ ব্যাপারে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জসিম উদ্দিন জানান, অ্যাডভোকেট মঈনুল হক বুলবুল ১০ অক্টোবর এই মামলা করেন। মামলাটি আমলে নেয়া যায় কিনা এ নিয়ে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদেশ দিয়েছেন।

Loading...