• আজ ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ডিএনসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

৪:০৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, নভেম্বর ১১, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

রাজু আহমেদ, ষ্টাফ রিপোর্টার- সম্প্রতি নানা কারনে আতঙ্কে রয়েছেন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলররা। অবৈধ সম্পদ অর্জন, ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তীর বদ্ধ কাউন্সিলররা। ইতোমধ্যেই ডিএসসিসির ২১ জন ও ডিএনসিসির ৩ জন কাউন্সিলরকে শোকজ করা হয়েছে দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে।

ঠিক তখনই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ০৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে ভুমিদস্যুতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ, ক্ষমতার অব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ যে তিন কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে শোকজ করেছেন তাদের মধ্যে মানিক একজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পল্লবী থানাধীন পলাশ নগর, ঈমাননগর, এভিনিউ-৫ এলাকায় নিচু অঞ্চল, সড়কের ফুটপাত এমনকি মালিকানা জমি দখলের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন কাউন্সিলর মানিক ও তার পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী। খাস জমি থেকে শুরু করে ক্রয়কৃত মালিকানা সম্পত্তি কোনটাই রেহাই পায়না ওই কাউন্সিলরের কালো থাবা থেকে।

সুচতুর কাউন্সিলর মানিক তার পদও ক্ষমতাবলে পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকায় নিজ ও তার শ্বশুরের নামে প্রায় ৭টি বাড়ি দখল করে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যার মধ্যে ১০নং সেকশনের ডি ব্লকে ৩৪ নং রোডের ৪নং বাড়ি, ২৮নং রোডের ৩২নং বাড়ি, ২৮নং রোডের ২২ ও ২৪ নং ২টি বাড়ি, ২৯ রোডের ১৭, ৩৩নং রোডের ১৬, ২৭নং রোডের ১৮নং বাড়িটি জোরপূর্বক ভোগদখল করছেন।

তবে জহিরুল ইসলাম মানিকের কু-কীর্তির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, র‌্যাব প্রধান, ডিএমপি কমিশনার ও ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের কয়েকজন।

একজন ভুক্তভোগী, কাউন্সিলর মানিকের থাবার শিকার রাজধানীর পল্লবী থানার ৫নং পলাশ নগরের স্থায়ী বাসিন্দা মৃত অহিদ মোল্লা ও বাহারুন্নেসার মেয়ে নুরুন নাহার। তিনি অভিযোগ করেন, পলাশ নগরস্থ আমার ২৮ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগ দখল করছেন মানিক। আমাদের এই জমির উপর আগে থেকেই তার কুনজর থাকলেও আমার মা-বাবার মৃত্যুুর পরপরই তিনি জাল দলিল তৈরী করে ২০১০ সালে সিটি খতিয়ান ১৬৫১নং এ ২৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন বলে দাবি করছেন। তার দাবিকৃত দলিল নম্বর ১৪৩৪৪।

আমার বাবা-মা’র মৃত্যুর পর এই জাল দলিলটিকে পুঁজি করে এলাকার চিহ্নিত ভূমি দস্যু, যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ আলম স্বাধীন ও হারুন অর রশিদ জোরপুর্বক দখল করেন।

নুরুন্নাাহার আরো দাবি করেন, একটি সহজ বিষয় লক্ষ্য করলেই বিষয়টি স্বচ্ছভাবে বোঝা যায় যে, বিবাদিরা যে জাল দলিলকে পুঁজি করে ক্ষমতাবলে আমাদের জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করছেন, সেই দলিলের একমাত্র সনাক্তকারী ও পরিচয়দানকারী হচ্ছেন কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মানিক।

মানিকের পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে প্রধান দুই সদস্য বিএনপি-জামায়াতের তালিকাভুক্ত ক্যাডার স্বাধীন ও ফরহাদ আলম ভূঁইয়া। যারা ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা, অবৈধ উপার্জিত সম্পদ, পুলিশি ঝামেলা এড়ানোর তাগিদে হাত কমিশনার জহিরুল ইসলাম মানিকের ছায়াতলে থেকেই নানা অপকর্ম পরিচালনা করছেন।

মানিকের দখলবাজিতে আরেক অন্যতম সহযোগী শহিদুল ইসলাম জীবন যুবদলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক নাশকতা মামলার আসামী হিসেবে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছেন।

ভুক্তোভোগী নুরুন নাহার আরও জানান, তিনি কাউন্সিলর মানিকের এসব দখল ও সম্পত্তি আত্মস্বাতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ চলতি বছরের ১৭ই এপ্রিল দূর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কাউন্সিলর মানিক ও তার সন্ত্রাসী দখলদার বাহিনীর অত্যাচারের প্রতিবাদে বেশ কয়েকবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে লিখিত অভিযোগসহ কয়েকদফা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করেও আশানুরূপ ফল পাইনি।

জানা গেছে, যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ আলম ভূইয়া স্বাধীন এক সময় ফুটপাতে চটপটি বিক্রি করলেও বর্তমানে রাজধানীতে কয়েকটি বাড়ি ও একটি কারখানার মালিক। মাটির মায়া রিয়েল স্টেট নামে একটি রিয়েল ষ্টেট কোম্পানিও রয়েছে তার নামে।

কাউন্সিলর মানিকের ভুমি দখল সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য দুই সদস্য দেলোয়ার ও শাহিন। দেলোয়ার ২০০৪ সালে রাজধানীর মিরপুরেই একটি গার্মেন্টেসে চাকুরি করলেও মানিকের বদন্যতায় এলাকায় কয়কটি আলীশান বাড়ির মালিক। শাহিন একসময় মিরপুরেই একটি পানির পাম্পে চাকুরীর সুবাদে তাকে এলাকায় পানি সাহিন নামেও সবাই চেনেন। কাউন্সিলর মানিকের আস্থাভাজন হিসেবে তিনিও বর্তমানে বেশ কয়েকটি বাড়ির মালিক বনে গেছেন।

জানতে চাইলে কাউন্সিল জহিরুল ইসলাম মানিক তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

Loading...