স্বামী জাহাজ দুর্ঘটনায়, ৫ দিন পর স্ত্রী ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত

৭:২৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- জাহেদা বেগম (৪০) এর স্বামী মুসলিম মিয়া কাজ করতেন চট্টগ্রামের একটি জাহাজে। নভেম্বরের ৭ তারিখ মুসলিম মিয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা যান সেখানেই৷ জাহেদা বেগম তার দুই সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে গত শনিবার এসেছিলেন শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের গাজীপুরে তার শ্বশুর বাড়িতে স্বামীর লাশ দাফন করতে৷

স্বামীর লাশ দাফন করা শেষে গতকাল সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে শ্রীমঙ্গল থেকে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসে আবার চট্টগ্রাম ফিরে যাওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান জাহেদা বেগম। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জাহিদার মা ও তার তিন সন্তান।

সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে জাহেদা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিলাপ করছেন জাহেদা বেগমের আত্মীয়-স্বজনরা৷

স্থানীয় বাসিন্দা টিটু মিয়া জানান, গত শনিবার আমরা জাহেদার স্বামী মুসলিম মিয়াকে দাফন করেছি। গতকাল কুলখানি শেষ করে জাহেদা তার বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা দেওয়ানোর জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে যাওয়ার পথেই ট্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলো।

জাহিদার ননদ হাসিনা বলেন, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার গাজীপুর এলাকার রামনগরের মুসলিম মিয়া পরিবার-পরিজন নিয়ে কর্মসূত্রে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বসবাস করতেন। জাহাজ কাটা শিল্পে কাজ করতেন তিনি।

জাহাজ কাটার সময় গত ৭ নভেম্বর তিনি দুর্ঘটনায় নিহত হন। স্বামীর কুলখানি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে স্ত্রী জাহিদা দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলে আসেন। কুলখানি অনুষ্ঠান শেষে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে করে চট্টগ্রাম ফিরছিলেন তারা। রাত পৌনে ৩টার দিকে কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই জাহিদা নিহত হন।

এ দুর্ঘটনায় আহত হন জাহিদার বড় ছেলে ইমন (১৭), মেয়ে সুমী (১৯), মীম (৮) ও মা সুরাইয়া খাতুন। তাদের মধ্যে ইমন ও সুরাইয়া খাতুনের দুই পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতালে) পাঠানো হয়েছে। দুই মেয়ে সুমী ও মীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের আরেক সদস্য সুমন ভিন্ন বগিতে থাকায় সুস্থ আছেন বলেন জানান হাসিনা খাতুন।

Loading...