কোটালীপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের জায়গা দখল, জীবননাশের হুমকি

৪:০২ অপরাহ্ন | বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

এইচ এম মেহেদী হাসানাত, স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় প্রভাবশালী দখলদাররা রাতের আধারে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জায়গা দখল করে নিয়েছে। দখলদাররা ভুক্তভোগী ওই পরিবারটির সদস্যদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।

এদিকে অবৈধভাবে জায়গা দখল, আদালতের নির্দেশ অমান্য ও ভবন নির্মান সামগ্রী চুরির অপরাধে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ দখলদারদের একজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

জানাগেছে, উপজেলার ডহরপাড়া গ্রামের খোকন চন্দ্র দাস ৬৯ নং মোক্ষকোটালী মৌজার ২৭৯,২৮০,৩২৫ দাগের ৭৩ শতাংশ জায়গা প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিল। ২০১৫ সালে খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর পৈত্রিক সুত্রে এই জায়গার মালিক হয় খোকন চন্দ্র দাসের দুই ছেলে বিমল দাস ও কালা চাঁদ দাস।

গত মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ডহরপাড়া গ্রামের মৃত সেকেনদার আলীর ছেলে বাচ্চু শেখ, মৃত কুব্বত আলীর ছেলে আলাউদ্দিন শেখ ও নুর মোহাম্মদ আলী শেখের ছেলে নজরুল ইসলাম শেখ গং মিলে রাতের আধারে ঘর তুলে জায়গাটি দখল করে নেয়। জায়গাটি দখল করে নেওয়ার পর বিমল দাস বাচ্চু শেখ গংদের কাছে জায়গার ঘর তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবননাশের হুমকি দিয়েছে বলে জানায়।

বিমল দাস বলেন, আমার বাবা প্রায় ৪৫ বছর ধরে এই জায়গাটি ভোগ দখল করে আসছে। বাবার মৃত্যুর পরে জমিটি আমরা ভোগ দখল করে আসছিলাম। এই ৭৩ শতাংশ জায়গার ৩২ শতাংশ জায়গা আমরা শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলাউদ্দিন হাওলাদারসহ ৪জনের কাছে বিক্রি করেছি। বাকী জায়গাটি আমাদের ভোগ দখলে রয়েছে। গত ১ সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে রাতের আধারে পুরো ৭৩ শতাংশ জায়গাই বাচ্চু শেখ, আলাউদ্দিন শেখ ও নজরুল শেখ গংরা দখল করে নেয়। আমরা জায়গায় গেলে আমাদের জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, গত বছর বিমল দাস ও তার ভাই কালা চাঁদ দাসের কাছ থেকে আমিসহ ৪জনে মিলে ৩২ শতাংশ জায়গা ক্রয় করি। গত কয়েকদিন আগে ওই জায়গায় ভবন নির্মানের জন্য ইট, বালু, সিমেন্ট এনে রাখি। কিন্তু রাতের আধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাচ্চু গংরা মিলে আমার ভবন নির্মানের প্রায় ২লক্ষ ৪০ হাজার টাকার মালামাল ওখান থেকে নিয়ে যায় এবং ওই জায়গায় ঘর তুলে পুরো ৭৩ শতাংশ জায়গা দখল করে নেয়। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ বিষয়ে আমি বাদি হয়ে কোটালীপাড়া থানায় ১১জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করি। পুলিশ রাতেই বাচ্চুকে আটক করে।

স্থানীয় কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন সরদার নান্না বলেন, আমি জন্মের পর থেকেই দেখছি এই জায়গাটি বিমল দাসের পরিবার ভোগ দখল করে আসছে। এখন বাচ্চু গংরা তাদের জায়গা বলে দাবি করছে। বাচ্চুরা কিভাবে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করছে সেটি আমার বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে বাচ্চু শেখের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জায়গাটির আমাদের বৈধ কাগজপত্র আছে। তবে তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, এই জায়গারটির উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। বাচ্চু শেখ সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধারে লোকজন নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছে। অপরদিকে শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলাউদ্দিন হাওলাদার ভবন নির্মানের মালামাল চুরির একটি অভিযোগ এনে বাচ্চু শেখসহ ১১জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বাচ্চু শেখকে গ্রেফতার করি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিমল দাসের পরিবারকে জীবন ও জায়গা জমি রক্ষায় নিরাপত্তা দেওয়া হবে।