• আজ বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২১ অক্টোবর, ২০২১ ৷

দেশের অর্ধেক রোগী জানেন না তার ডায়াবেটিস


❏ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ আপনার স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর- দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী-পুরুষ এখন এই নীরব ঘাতকের শিকার হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্রই প্রায় সমান হারে ডায়াবেটিস ছড়িয়ে পড়ছে। যে হারে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ও শনাক্ত হচ্ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এর শিকার। চিকিৎসকরা একে মহামারি বলতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) এক জরিপে এমন উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, দেশের ২৫ দশমিক ৬০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবে আক্রান্তদের ৫০ শতাংশ জানেই না তার ডায়াবেটিস সমস্যা রয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে বারডেম হাসপাতালের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রকাশ করা হয় এর প্রতিবেদন। ২০১৮ সালের নভেম্বরজুড়ে দেশের প্রতিটি উপজেলাসহ মোট ৮০০টি স্পটে গবেষণাটি চালানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিস রোগীর ৯০ শাতাংশ টাইপ-২ এ ভুগছেন। এটি প্রতিরোধযোগ্য। এ বিষয়ে অবশ্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় তা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

বাডাস সভাপতি অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, ‘ডায়াবেটিস রোগী শনাক্ত হয়নি এমন ১ লাখ মানুষের এ বিষয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাতে ২৫ দশমিক ৬০ শতাংশ মানুষের মধ্যেই ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এ সংখ্যা আগের অনুমিত সংখ্যা থেকে অনেক বেশি। এমনকি আক্রান্ত ৫০ শতাংশ মানুষই জানে না তার ডায়াবেটিস আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডায়াবেটিস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন ডায়াবেটিক রোগী রয়েছে। তবে এর প্রতিরোধে রোগটি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) এটলাস-২০১৭ এর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ কোটিরও বেশি। আর টাইপ-২ ডায়াবেটিস ৭০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধযোগ্য। ফলে এখনই যদি এ রোগ প্রতিরোধ করা না যায়, তা হলে এ সংখ্যা ২০৪০ সাল নাগাদ প্রায় ৬৪ কোটিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া দেশে প্রায় ৭৩ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যাদের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী।

আরও জানা যায়, দেশের শতকরা ২০ জন গর্ভবতী নারীই গর্ভকালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, যাদের ৬৫ শতাংশই পরবর্তীকালে টাইপ-২ এ রূপ নেয়। তাই গর্ভকালীন এ রোগ নিয়ন্ত্রণ না করলে মা ও শিশু দুজনেরই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ৩৯ শতাংশ রোগ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে। তবে সব রোগী চিকিৎসাসেবার আওতায় নেই। আবার দেশের সব জেলা হাসপাতালেও ডায়াবেটিস চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। কিছু কিছু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এন্ডোক্রাইমনোলজি বিভাগে এর চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিভাগটি নেই। ফলে ডায়াবেটিস সমিতি হাসপাতাল ও ঢাকার বারডেম হাসপাতালেই রোগীরা ভিড় করে। তাই এখন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে ডায়াবেটিস বিভাগ চালু করে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জন্য সরকারের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

প্রতিরোধের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন- উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা, রক্তচাপ পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন সম্পর্কিত চেকআপ ইত্যাদির মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর একজন রোগীর পেছনে বছরে ৬৫ ডলার (প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা) ব্যয় হয়। ডায়াবেটিসের কারণে যাদের কিডনি, লিভার, চোখসহ অন্যান্য অঙ্গের সমস্যা দেখা দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যয়টা অনেক বেশি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন