• আজ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাস খাদে, পানিতে নেমে যাত্রীদের উদ্ধার করলেন ওসি মেহেদী হাসান

১:২০ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- পানিতে নেমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান। দুর্ঘটনার পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করেছেন তিনি।

তার সেই উদ্ধারকাজের বেশ কিছু ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের টাইমলাইনে সেসব ছবি পোস্ট করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সেই ওসির। তাকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কের ডামুড্যা উপজেলার খেজুরতলা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। বাসটিতে অন্তত ৩০ জন যাত্রী ছিল। উপস্থিত লোকজন যখন দাঁড়িয়ে দুর্ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন তখন ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ময়লা খাদের পানিতে লাফিয়ে পড়েন।

তার লাফিয়ে পড়া দেখে স্থানীয় লোকজনও লাফিয়ে পড়েন। গাড়ির জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে দেন। যাতে সহজে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা বেরিয়ে আসতে পারেন। গাড়ির ভেতর আটকা পড়া ছয় নারীসহ ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেন ওসি নিজেই।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। সংবাদ পেয়ে একে একে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় কামরুজ্জামান মাহমুদ মুন্সী (৪৫) ও ইয়াকুব পাইককে (৮০) উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি। এ দুর্ঘটনায় আহত হন ছয় নারীসহ অন্তত ২৫ জন যাত্রী।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ডামুড্যা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নান্নু মৃধা বলেন, গাড়িটি খাদে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের ওসি মেহেদী হাসান দ্রুত লাফিয়ে পড়েন পানিতে। তিনি প্রথমে গাড়ির জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে দেন। যাতে করে ভেতরে আটকেপড়া যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে। পানির নিচে গাড়ির ভেতর থেকে বের করে আনেন অনেক যাত্রীকে। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে রক্ষা পায় বহু প্রাণ।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ওসি মেহেদী হাসান যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে যাত্রীদের উদ্ধার করেন তা অবিশ্বাস্য। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ময়লা পানিতে নামেন। এ বীরত্বের জন্য উপস্থিত হাজারো মানুষ তাঁকে এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে পানিতে নেমে ওসির যাত্রীদের বাঁচানোর এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সেই ছবি শেয়ার করে ওসি মেহেদী হাসানের প্রশংসা করছেন।

শরীয়তপুরের জজকোর্টের আইনজীবী শহীদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘কয়েক ঘণ্টা আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অনিয়ম নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছি। এদিকে মঙ্গলবার শরীয়তপুরের ডামুড্যায় খাদে পড়ে যাওয়া বাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি। তাঁকে স্যালুট জানাতে আমরা কেন পিছপা হব? খারাপ কাজে যেমন কঠোর সমালোচনা জরুরি, ভালো কাজে তার দ্বিগুণ শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। ভালো কাজের প্রতিযোগিতা শুরু হোক।’

জানতে চাইলে ডামুড্যা থানার ওসি মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মানুষের চরম বিপদের মুহূর্তে যদি নিজেকে উজাড় করে দিতে না পারি, তাহলে আমরা কেমন মানুষ? আমি হয়তো ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করে, উদ্ধারকাজ তদারকি করে দায়িত্ব শেষ করতে পারতাম। তবে এতে আমার আত্মা তৃপ্ত হতো না। বিপদের সময় বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই বড় দায়িত্ব।’