‘পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দ্বীপ খোঁজা হচ্ছে’- প্রধানমন্ত্রী

১২:২৭ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯ জাতীয়
pm

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পর আমরা আরও একটি পরামাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করবো। এজন্য আমরা দক্ষিণে দ্বীপ খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমরা দক্ষিণে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি করবো। কারণ, দক্ষিণের জনগণ বেশি বঞ্চিত।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপ্তি অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে একথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের পাশাপাশি ভারতেও এখন হচ্ছে। অল্প খরচে এখান থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। পরমাণু বিদ্যুতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও আমাদের চুক্তিতে আছে। তারা এই বর্জ্য রাশিয়ায় নিয়ে যাবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে আমরা তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আমাদের জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছি। দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।’

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর আন্দোলন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। কিছু শিক্ষক আছেন, যিনি ভিসি হচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। একজন ভিসিকে তাড়ানোর পর যে ভিসি আসেন, তাকে তাড়াতে আগের ভিসিও যুক্ত হন। একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩ জন ভিসিকে অপমান করে তাড়ানো হলো। কয়েকজন আছেন, অনবরত এই আন্দোলন করেন। এই একটাই তাদের দায়িত্ব। শিক্ষকরা তাদের স্বার্থের জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করবেন কেন? আর আমরা ব্যবস্থা নিলে তারপরও কেন আন্দোলন হয়? এই আন্দোলনে সীমিত কয়েকজন ছাত্রছাত্রী থাকে। কিন্তু বাকিদের তো পড়াশোনা নষ্ট হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে আমরা যেখানে সেশনজট দূর করছি, সেখানে তারাই সেশনজট সৃষ্টি করাচ্ছে। কী অভিযোগে আন্দোলন তা বলে দিতে হবে। আইনেরই একটি ধারা আছে, কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে তা প্রমাণিত না হলে ওই অভিযোগকারীর শাস্তি হবে। এটা আইনের ব্যাপার। আইন তার নিজ গতিতে চলবে। হাতেগোনা কয়েকজনের জন্য আমরা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হতে দেবো না।’

হত্যাকারী-সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘কোন দল করে, সেটা দেখতে চাই না। অপরাধীর কোনও দল নেই। তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে। আমি দলটল কিছু দেখবো না। অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। সমাজটাকে দুষ্টদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছি। কিছু লোকের তা পছন্দ হয় না। দেশের বিরুদ্ধে বদনাম করতে পারলেই তারা খুশি হয়—এমন একটি চক্র আছে। না হলে পদ্মা সেতুর মতো প্রজেক্টের টাকা বিদেশে গিয়ে যারা বন্ধ করে, তারা দেশের কত বড় শত্রু তা বিবেচনা করতে হবে। তারা জনগণের স্বার্থ দেখে না। নিজেদের স্বার্থটা দেখে। তবে সব চক্রান্ত ভেদ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এগিয়ে যাবো।’

Loading...