🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৭ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৩ অক্টোবর, ২০২১ ৷

আইনজীবীকে মেরে, হাতকড়া পরিয়ে লকআপে পাঠালেন এসআই!


❏ শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি- দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দায়েরকৃত দেওয়ানী মামলা আপোষ না করায় এক শিক্ষানবীশ আইনজীবীকে প্রকাশ্যে মারধর ও হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের লকআপে আটক রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে জেলা সদরের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ মোড় কাঁচাবাজার এলাকায়।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মাসুদুর রহমান ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও শিক্ষানবীশ আইনজীবী নাজমুল হককে তার ভাইয়ের জমি বিক্রির বিষয়ে দায়েরকৃত পিএমশান (অগ্রক্রয়) মামলা তুলে নিয়ে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে বলে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এসআই ফোনে তার অবস্থান জেনে নিয়ে সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন। রাত পৌণে ১১টার দিকে এসআই মাসুদ সঙ্গীয় পুলিশ কনস্টেবল রবিউলসহ একটি মোটর সাইকেল যোগে গোয়ালন্দ মোড় কাাঁচা বাজারে পৌছে নাজমুলের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এক পর্যায়ে এসআই মাসুদুর রহমান তার কোমড় থেকে পিস্তল বের করে ওই শিক্ষানবীশ আইনজীবীকে ভীতি প্রদর্শন, প্রকাশ্যে হাতকড়া পড়িয়ে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।

নাজমুলের পরিবারের অভিযোগ খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়েও দারোগা মাসুদ ও সঙ্গীয় পুলিশ কনস্টেবল রবিউল তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে তদন্ত কেন্দ্রের লকআপে রেখে দেয়।

বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মোঃ ফজলুর রহমানকে জানালে তার নির্দেশে প্রায় এক ঘন্টা পর স্থানীয় জামিনদারের মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুল হক জানিয়েছেন, গত ১২ নভেম্বর গোয়ালন্দ মোড় কাঁচা বাজারে তার শ্বশুর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আঃ সামাদ বেপারী দোকান ঘর মেরামতকালে এসআই মাসুদ সেখানে হানা দিয়ে তাদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং তার দোকানের নির্মাণ সামগ্রী সাটার ও হাতুরী ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মোঃ ফজলুর রহমান এবিষয়ে কোনরুপ বেআইনী কার্যকলাপ না করার জন্য উক্ত দারোগাকে মোবাইল ফোনে শাসিয়ে দেয়। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই মাসুদ ব্যবসায়ী সামাদ বিশ্বাসের জামাতা নাজমুলকে মারপিট ও হাতকড়া পড়িয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আটক রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই মাসুদ বলেন, দু’পক্ষের বিরোধের কারণে নাজমুলকে আটক করে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয়। এরচেয়ে বেশী কোন কথা বলতে তিনি অপরগতা জানান।

এদিকে এডিশনাল এসপি মোঃ ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি দু’জনের মধ্যে একটি ভুলবোঝাবুঝির ঘটনা। এটি মিটে গেছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন