• আজ রবিবার। গ্রীষ্মকাল, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। বিকাল ৩:০১মিঃ

পেঁয়াজের দাম কমছে

১১:২৮ পূর্বাহ্ন | সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কমা, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অভিযানসহ নানা কারণে পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের। পাইকারিতে এক দিনেই কেজিতে দাম কমেছে ২০ টাকা পর্যন্ত। তবে খুচরায় চড়া দাম ধরে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে উড়োজাহাজে আমদানির ঘোষণায় বাজারে অস্থিরতাও কিছুটা কমেছে। পেঁয়াজ আসার খবরে ক্রেতারা অনেকটা আশ্বস্ত হয়ে কেনা কমিয়ে দিয়েছেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, চাহিদা কম থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে থাকা পেঁয়াজ এখন দ্রুত বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন।

গতকাল রাজধানীর পুরান ঢাকার পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারে কেজিতে ২০ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং মিসর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কেজিতে ১০ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২০০ টাকা এবং মিসর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়।

তবে রাজধানীর খুচরা বাজারে এখনও দেশি পেঁয়াজ কিনতে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এ ছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজও ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিসর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজ ২২০ টাকায় বিক্রি হয়। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, চড়া দামে কেনা পেঁয়াজ লোকসান দিয়ে বিক্রি করবেন না। কম দামে পেঁয়াজ আনা সম্ভব হলে তখন কম দামে বিক্রি করবেন। তবে বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ আরও বাড়ছে। এই পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে খুচরায় দাম কমবে বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বাজার সামাল দিতে নড়েচড়ে বসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মিসর থেকে কার্গো বিমানে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান দেশে আসছে আগামীকাল মঙ্গলবার। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছামাত্র খালাসের পর পরই তা বাজারে ছাড়া হবে।

কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়া দ্রুততম সময়ে পেঁয়াজ যেন খালাস করা হয় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এক বৈঠক থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিমান বাংলাদেশ কার্গো হ্যান্ডেলিংস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, কাস্টম হাউস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কার্গো বিমানে পেঁয়াজের প্রথম চালান আসছে মিসর থেকে। এ চালান নিয়ে আসছে বৃহত্তর ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম। পর্যায়ক্রমে অন্য আমদানিকারকদের পেঁয়াজও কার্গো বিমানে আসবে। বিমানের পেঁয়াজ খালাসে কোনো ধরনের জটিলতা আছে কিনা, তা-ও জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে। পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তুরস্ক, মিসর, আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলেও জানানো হয়।

পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক করার চেষ্টায় ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। হঠাৎ অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় মধ্যবিত্তসহ সাধারণ ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা ছুটছেন টিসিবির পেঁয়াজ কিনতে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে টিসিবিও।

জিগাতলা মোড়ে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ কিনতে আসা জেবুন্নেসা নামের এক গৃহিণী বলেন, সকালের ট্রাক আসে ১২টায়। তাই ট্রাক আসার আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে মানুষ। শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে কেউ না থাকায় ঠেলাঠেলিতে মারামারি বেধে যায় প্রায় সময়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে মহিলা মানুষের লাইনে টিকে থাকা মুশকিল অনেক।

এদিকে খামারবাড়ী, কারওয়ানবাজার, নীলক্ষেত এলাকার টিসিবির ট্রাকের কাছে গিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পেঁয়াজ পাননি অনেকে। বেশি সংখ্যক ক্রেতা যেন পেঁয়াজ পায়, সে জন্য টিসিবি মাথাপিছু বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে এক কেজি করে। তার পরও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। অনেকের অভিযোগ, দল বেঁধে এসে বেশি পেঁয়াজ সংগ্রহ করছেন অনেকে।