• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অধিক লাভের আশায় খাদ্যদ্রব্য মজুদ করে মানুষকে কষ্ট দেয়া ইসলামে নিষিদ্ধ

৫:১১ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯ ইসলাম
moju

ইসলাম ডেস্কঃ অন্যায়ভাবে মানুষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সামাজিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দ্রব্য-সামগ্রী জমা করে রাখা যেমন গোনাহের কাজ। তেমনি এ কাজে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে মহামারী দ্বারা শাস্তি প্রদান করেন।

অধিক লাভের চিন্তা করে দ্রব্য-মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-সামগ্রী জমা রাখাকে ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইহতিকার বা মজুতদারী বলা হয়। অস্বাভাবিকভাবে মুনাফা লাভের আশায় মজুতদারী করা অভিশাপ বা গোনাহের কাজ।

এসম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি খাদ্যশস্য মজুদ রাখে, আল্লাহপাক তার ওপর দরিদ্রতা চাপিয়ে দেন। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ৫৫)

অপর আরেকটি হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অভিশপ্ত। ‘ (ইবনে মাজাহ)

অন্য হাদিসে মজুতদারকে অভিশপ্ত ঘোষণা করে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অধিক মুনাফা লাভে আশায় মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি ৪০ দিন পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুদ রাখে, সে ব্যক্তি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট। (ইবনে মাজাহ, বায়হাকি ও মিশকাত)

এ ধরনের কাজে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অনেক মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। তাদের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। তাই ইসলাম এ প্রকার কাজকে হারাম ঘোষণা করেছে।

ব্যবসায়িক পণ্য বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বর্ধিত মুনাফা আদায়ের প্রচেষ্টা শুধু ইসলাম নিষিদ্ধ করেনি বরং এটি একটি সামাজিক অপরাধ।

এসম্পর্কে আরও একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অপরাধী। (আল মু’জামুল কাবির : ১০৮৬)
তবে গুদামজাত পণ্য যদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু না হয় কিংবা মানুষ এর মুখাপেক্ষী না হয় অথবা এসব পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত হয় বা গুদামজাতকারী বর্ধিত মুনাফা অর্জনের অভিলাষী না হয়, তাহলে এসব অবস্থায় পণ্য মজুদ রাখা অবৈধ নয়।

খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের সময় করণীয় সম্পর্কে আল্লামা শামী রহমাতুল্লাহি বলেন-

দুর্ভিক্ষের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া যদি সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তবে বিচারক বা আদালত খাদ্যশস্য মজুতদারকে জমা করা পণ্য বিক্রির করে দেয়ার আদেশ জারি করবেন।

মজুতদার যদি নির্দেশ পালন না করে, তবে বিচারক তার খোরাকী বাবদ প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য রেখে বাকীগুলো (নিজ ব্যবস্থাপনায়) বিক্রি করে দিবেন।

যদি সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্যদ্রব্য কেনার মতো টাকা-পয়সা না থাকে, তবে বিচারক ক্রমশ তা বণ্টন করে দিবেন। পরে তাদের হাতে খাদ্যশস্য আসলে আদালত তাদের কাছ থেকে তা আদায় করে দাতার(মজুতদার) কাছে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।

আর নিজস্ব জমির খাদ্যশস্যের ব্যাপারেও এ বিধান প্রযোজ্য হবে। অবশ্য কেউ যদি নিজের জমির ফসল হতে নিজের ও পরিবারের বাৎসরিক প্রয়োজন পূরণ ও ব্যয় নির্বাহের জন্য খাদ্যদ্রব্য সঞ্চয় করে রাখে; তবে ইহাতে কোনো অন্যায় হবে না।

পরিশেষে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর নিকট এই দোয়া করি যেন, সুন্দর সমাজ ও দেশ গঠনে বাধাস্বরুপ অন্যায় ভাবে মজুতদারী বা কালোবাজারী করা থেকে দেশের জনগণকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। সমাজ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদেরকে এ ব্যাপারে সঠিক নজরদারি ও তদারকি করার তাওফিক দান করুন।