• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২:৩০মিঃ

হাসিনা-মমতা বৈঠকে এবারও উঠেনি তিস্তা চুক্তি

৯:৩৩ অপরাহ্ন | শনিবার, নভেম্বর ২৩, ২০১৯ আন্তর্জাতিক
hasina-mamata_1

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেকার গোলাপি বলের প্রথম টেস্ট উদ্বোধন করতে শুক্রবার একদিনের সফরে কলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাদা করে কোনো বৈঠকের কথা না থাকলেও সফরের আগের দিন বৃহস্পতিবার মমতার কার্যালয় থেকে একান্ত বৈঠকের জন্য চিঠি পাঠানো হলে ঢাকাও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়। তবে এ বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গে কোনো কথা হয়নি।

প্রাথমিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও আলাদা বৈঠকের সূচি ছিল না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু নবান্ন থেকে বৃহস্পতিবারই একান্ত বৈঠক চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যায় ঢাকাও। সেই সূত্রেই ঠিক হয়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ২০ মিনিট একান্তে কথা বলবেন দুই নেত্রী। বাস্তবে অবশ্য বৈঠক গড়ায় প্রায় ৫০ মিনিট।

ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান আলিপুরের হোটেলে। সেখানে প্রথমে উভয় পক্ষের কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই নেত্রীর কথা হয়। সেই বৈঠকে মমতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই বাংলার মধ্যে আরও আদানপ্রদানের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে সাইকেল শিল্পে বাড়বাড়ন্তের কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তা শুনে মমতা বলেন, বাংলাদেশের সাইকেল নির্মাতারা এ রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদের জমি দেয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার বলছে, বৈঠকে দুই নেত্রীর কেউই তিস্তা প্রসঙ্গ তোলেননি। তবে এনআরসি নিয়ে ভারতে যা ঘটছে; সে ব্যাপারে বাংলাদেশ যে অবহিত, আলোচনায় সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বস্তুত, মমতার সঙ্গে বৈঠকের পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এক কোটি শরণার্থীর ভারতে আশ্রয় নেয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন, তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে।

আনন্দবাজার বলছে, কিন্তু এখন এনআরসি-র আবহে যখন বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তাদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি-না, তা নিয়ে ভারতে জল্পনা শুরু হয়েছে, তখন মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়ার পেছনে কূটনৈতিক কৌশল রয়েছে।

বৈঠকের পর শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশা করি, সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চিরদিন বজায় থাকবে।’ অন্য দিকে মমতা বলেন, ‘দুই বাংলা ও দুই দেশের নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকবে, সেই আশা করি।’

মমতাও একই সূরে বলেন, ‘দুই বাংলা ও দুই দেশের নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকবে, সেই আশা করি।’