প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর পেঁয়াজ শূণ্য মঠবাড়িয়া

১০:৫২ পূর্বাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৯ দেশের খবর, বরিশাল

এস.এম. আকাশ, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা জুড়ে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজের দাম উর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে প্রশাসনের বাজার মনিটরিংয়ের পর থেকে পৌর শহরসহ উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বাজারগুলো পেঁয়াজ শূণ্য হয়ে পড়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, সারাদেশে যখন পেঁয়াজের দাম মানুষের ক্রয় সীমার বাইরে তখন সরকারের বেধে দেয়া দামে পেঁয়াজ বিক্রির জন্য গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও পুলিশ প্রশাসন যৌথ অভিযান চালায়। এসময় একশ আশি টাকা দরের পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের বাধ্য করে প্রশাসন। এতে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিলে উপজেলা জুড়ে তীব্র পেঁয়াজের সংকট দেখ দেয়।

মিরুখালী থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা মোঃ কলিমউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাড়িতে মেহেমান এসেছে পেঁয়াজ নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। অথচ কোন দোকানেই পেঁয়াজ নেই। এটা কোন দেশে বাস করি!

দক্ষিণ বন্দর খলিফা ট্রেডার্স এর সত্তাধীকারী মো শাহিন খলিফা পেঁয়াজ ক্রয়ের রশিদ দেখিয়ে বলেন, খুলনা মোকাম থেকে ১৮০ টাকা দরে ১০ বস্তা পেঁয়াজ কিনে পুলিশের কারনে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। না হলে আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যেত। এক দিনে আমার ৫০ হাজার টাকার উর্ধে লোকসান হয়েছে। এই টাকা কে দেবে ?

ক্ষুদ্র পেঁয়াজ আড়ৎদার মোঃ ফারুক হোসেন জানান, খুলনা থেকে ১৭৫ টাকা দরে ২৫ বস্তা পেঁয়াজ কিনে ১৭৬ টাকা দরে বাহালীদের চটে দেই। সারাদিন বিক্রিন পরে সন্ধ্যার পরে তারা হিসেব করে আমাকে টাকা দেয়। কিন্তু গত বুধবার বাহালীদের পেঁয়াজ দেবার পর পুলিশ এসে বাহালীদের ৬০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য করে। এতে বিক্রি হওয়া ১৮বস্তা পেয়াজের কোন দামই এখন পর্যন্ত আমি পাইনি। আমি নিঃশ হয়ে গেছি।

ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর জানান, বারতি টাকায় পেঁয়াজ কিনে পুলিশের ধমকে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার চেয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করবো না। আবার সেই পেঁয়াজ পুলিশের সামনে লুট করে নিয়ে যাবে! এবার পুলিশে পেঁয়াজ এনে বিক্রি করুক।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন মোঃ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, পেঁয়াজের বাজার সহনীয় করতে এবং ব্যবসায়ীরা যাবে দোকানে পেঁয়াজ বিক্রি করে সেজন্য ব্যবসায়দের সাথে বৈঠক ডেকেছি। এছাড়া যারা পেঁয়াজ লুট করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপন বিশ্বাস জানান, সরকারের নির্দেশে বাজার মনিটরিং করেছি। সরকারের বেধে দেয়া দরেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে বলেছি।