• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। ভোর ৫:১৪মিঃ

হবিগঞ্জে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে অস্ত্র জমা দিলেন সাঙ্গর গ্রামবাসী

⏱ | রবিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৯ 📁 দেশের খবর, সিলেট

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার উত্তর সাঙ্গর গ্রামবাসী। গতকাল শনিবার বিকেলে পুলিশ সুপারের নিকট তারা এসব অস্ত্র স্বপ্রণোদিত হয়ে জমা দেন। এ সময় তারা আর দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত না হওয়ার অঙ্গীকার করেন।

পুলিশের প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা নিজ উদ্যোগেই প্রায় ৩ শহস্ত্রাধিক দেশীয় সুচালো ও ধারালো অস্ত্র জমা দেন। উত্তর সাঙ্গর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্ত্র জমাদান উপলক্ষে জেলা পুলিশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বানিয়াচং থানার ওসি রঞ্জন সামন্ত।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম, পিপিএম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম ফজলুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোঃ সেলিম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সামছুল হক, জেলা ছাত্রলীগে৯র সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন খান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ইদ্রিছ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জাহির, এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বী এমএ রব, নূরুল হুদা, আব্দুল হেকিম ফুল মিয়া, ফারুক হোসাইন বেলু, আব্দুল আউয়াল মেম্বার, জাহাঙ্গীর আলম আনছারী, আলাউদ্দিন মেম্বার, ছাত্রলীগ নেতা এমজি কাদিরসহ এলাকার মুরুব্বীয়ান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বিপিএম-পিপিএম বলেন, হবিগঞ্জ এখন আর আগের মত জেলা নয়, হবিগঞ্জ জেলা এখন একটি শিল্পোন্নত জেলা, এখানে গর্ব করার মতো অনেক কিছু আছে, যা অন্য জেলায় নেই, এখন বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ হবিগঞ্জ জেলা দেখার জন্য ছুটে আসেন, যা আপনাদের গর্ব করার মত। তবে এত সব গর্বের মধ্যে একটি দুঃখ আছে, তা হচ্ছে দাঙ্গা, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হানাহানি করে খুন খারাপীর মত ঘটনা ঘটে, যা সত্যিই পীড়া দায়ক। এ থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে, মনে রাখতে হবে যাকে আঘাত করছি সে আমাদের স্বজন, আমাদের ভাই, আমাদের প্রতিবেশী। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর যেন কোন হানাহানি না ঘটে সে ব্যাপারে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে গ্রামের শতাধিক মানুষ নিজ উদ্যোগে গ্রাম্য দাঙ্গায় ব্যবহৃত টেটা, ফিকলসহ ৩ সহস্রাধিক দেশীয় অস্ত্র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বিপিএম-পিপিএম কাছে জমা দেন। যারা অনুষ্ঠানস্থলে দেশীয় অস্ত্র জমা দেয়নি, তাদেরকে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় দেশীয় অস্ত্র জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। এর পরে কারো বাড়ীতে দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার হুশিয়ারী প্রদান করা হয়। এর পূর্বে মাদক বিরোধী রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনকারী ১টি কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রদের হাতে পুরস্কার তুলেদেন প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর সালিশে রায়ে নির্ধারিত জরিমানার টাকা না দেয়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হয়। এ সংঘর্ষের পর হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ সেলিম ও বানিয়াচং থানার ওসি রঞ্জন সামান্ত উত্তর সাঙ্গর এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে আলোচনা করেন।

এ প্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার বিকেলে উত্তর সাঙ্গর গ্রামে জেলা পুলিশ প্রশাসন ‘দাঙ্গা, মাদক, জঙ্গী সন্ত্রাস রোধকল্পে দেশীয় অস্ত্র জমাদান ও আলোচনা সভার’ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্যা দেশীয় অস্ত্র জমাদানের আহবান জানালে গ্রামের সকল গোষ্ঠীর লোকজন দল বেধে ফিকল, টেটা ও বল্লমসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রগুলো জমা দেন।

উত্তর সাঙ্গর গ্রামের যুবক আব্দুর রহমান বলেন, আমরা সকলে মিলে অস্ত্র জমা দিয়েছি। আর কোনদিন আমরা কোন ধরনের সংঘর্ষে জড়াব না। এর আগে যে সংঘর্ষ হয় তাতে এলাকার বহুলোক পঙ্গু হয়েছে। মামলার কারনে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছেন। নিজেরা নিজেরা ঝগড়া না করলে আজ এই পরিণতি হত না। তিনি পুলিশের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।