• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘পরিবহন শ্রমিক নেতারা নিজেদের স্বার্থে শ্রমিকদের ভুল বোঝাচ্ছেন’- ইলিয়াস কাঞ্চন

১:০৫ অপরাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ
content_iliyas_kanchan

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ইলিয়াস কাঞ্চনের হাত ধরেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে সচেতনতা এসেছে, আন্দোলনটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে। সবাই যেন এই আইন মেনে চলেন সেজন্য পথে ঘুরে ঘুরে গাড়িচালকদের বোঝাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। যার ফলাফল হয়েছে উল্টো।

পরিবহন শ্রমিক আর মালিকদের কাছে ইলিয়াস কাঞ্চন বরাবরের মতোই চক্ষুশূল হয়েছেন। রাজপথে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে, তার ছবি পোড়ানো হয়েছে। তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা করেছে।

দেশের মানুষ ইলিয়াস কাঞ্চনকে সমর্থন দিয়েছে। তারাও কাঞ্চনের মতো মনে করে এসব আইন বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা কমবে। চলচ্চিত্র শিল্পীও তার সঙ্গে আছে বলে জানান শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। এ ছাড়া অনেক সাধারণ মানুষও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে আছেন বলে সমর্থন জানাচ্ছেন।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ নিয়ে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। এ সময় তিনি বলেন, প্রতি বছর সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করে জাতিসংঘ। এটি ঘিরে প্রত্যেকবারই তারা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নির্বাচন করে। এর একটি ছিল- ‘কিল স্পিড, নট লাইফ’। তারা বলেছিল, তুমি গতিকে হত্যা করো, জীবনকে নয়।

জাতিসংঘ গতি কী, গতির শক্তি, গতি কতোটা ভয়াবহ ও বিপজ্জনক তা বোঝাতে বলেছিল, ২০ জন লোক একসঙ্গে ২০টি পিস্তল দিয়ে গুলি করলে যেমন বিপদ হতে পারে, ৬০ কিলোমিটার বেগে একটি গাড়ি চললে, তার চেয়েও বেশি বিপদ হতে পারে। সেই গতিকে যদি কন্ট্রোল করা না যায়, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে, মানুষও মারা যেতেই থাকবে। আমাদের দেশের চালকদের গতির বিষয়ে তেমন কোনো ধারণা নেই। তাই সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটে বেশি।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর বিষয়ে পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ- জরিমানার পরিমাণ অনেক বেশি করা হয়েছে। তাদের এমন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, পরিবহন শ্রমিক নেতারা নিজেদের স্বার্থে শ্রমিকদের ভুল বোঝাচ্ছেন। জরিমানা দেওয়া বা করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়। আইন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে- আইনটা মেনে চলা। জরিমানার পরিমাণ যদি এমন হয়- সারাদিন আমি যা আয় করলাম, তার থেকে খুব সামান্য একটা অংশ জরিমানা দিলাম, তাহলে তো বারবার আইন অমান্য করে জরিমানা দিতে কোনো অসুবিধা হবে না তাদের। জরিমানার পরিমাণ বেশি হলে নিজের টাকার মায়ায় হলেও তারা আইন মেনে চলবে।