‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দেবে না চীন’

১:৪৫ অপরাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- চীন রোহিঙ্গা ইস্যুকে গুরুত্ব দেয় জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, এ ইস্যুতে চীন সক্রিয় ও উদ্বিগ্ন রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সার্বভৌম দেশ, তাই চীন কাউকে এ নিয়ে চাপ প্রয়োগ করতে পারে না।

আজ রোববার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কৌশল সন্ধান’ বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন চীনের রাষ্ট্রদূত। এছাড়া সমস্যাটি কূটনীতির মাধ্যমে নিজেদের মিটিয়ে ফেলারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

লি জিমিং বলেন, রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে চীন। শেখ হাসিনার চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মিয়ানমার বন্ধু রাষ্ট্র হলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোন পক্ষপাত নেই চীনের। গত ২ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে কূটনীতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্থানীয় প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যেখানে রয়েছে আমার ৩০ বছর জীবনে এমন অবর্ণনীয় যন্ত্রণাদায়ক শরণার্থী ক্যাম্প দেখিনি। একমাত্র বাধ্য হয়েই তারা সেখানে বসবাস করছে।’

তিনি আরও জানান, ‘শতকরা ৯৭ জন রোহিঙ্গা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে মিয়ানমারে ফিরে যাবেন। এজন্য দরকার শান্তিপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিরাপদ প্রত্যাবাসন।‘

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, আমরা চাই রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে স্বদেশে ফিরে যাক। গত দুই বছর ধরে এ কথা বললেও দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো একজন রোহিঙ্গাও স্বদেশে ফিরে যেতে পারেননি।

তিনি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবের উচিত, দ্রুত মিয়ানামারে একটি অনুসন্ধানী দল পাঠানো। যারা সেখানকার রোহিঙ্গা নির্যাতনের সঠিক চিত্র তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে একটি নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলতে হবে। যেন রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন ও পরবর্তী সময়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে।