• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইসিতে নিয়োগে ৪ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ মাহবুব তালুকদারের

৫:২১ অপরাহ্ন | সোমবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন তিনি।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনারদের কিছু না জানানোকে সংবিধানের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন মাহবুব তালুকদার। তার অভিযোগ, সম্প্রতি ১২ এবং ২০ গ্রেডে শূন্য পদে ৩৩৯ জনকে নিয়োগ এবং সেই পরীক্ষা থেকে বহিষ্কৃত ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সে বিষয়ে জানতে চেয়ে কোনো তথ্য পাননি তিনি।

এছাড়া নিয়োগের পেছনে চার কোটি টাকার উপরে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ তোলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না বলেও আশঙ্কা করেন এই নির্বাচন কমিশনার।

কমিশন সচিবালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মাহবুব তালুদকার বলেন, ‘কমিশন সচিবালয়ের সাম্প্রতিক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ১৩৫ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি চিঠি দিয়ে বিশদভাবে জানতে চাই, কিছু প্রশ্নের জবাব চাই। জবাবে জানানো হয়, হাতের লেখার অমিল বা পরিচয়পত্রের অমিলের কারণে মৌখিক পরীক্ষার সময় ওই ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। প্রতারণার দায়ে তাদের মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। কারও কারও কাছ থেকে লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।’

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদকে চার কোটি আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, ‘এই অর্থ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুমোদন করলেও কতজন পরীক্ষককে কীভাবে এই টাকা দেওয়া হয় তার কোনও হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। নিয়োগ কমিটির সদস্যও এ বিষয়ে অবহিত নন। কমিশন সচিবালয় পরীক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানে না। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ধরনের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ।’

মাহবুব তালুকদার আরও জানান, ‘গত ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় কমিশন সচিবালয় ওই নিয়োগ পরীক্ষা ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কমিশনকে কোনও পর্যায়েই অবহিত করেনি। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনাররা জানতে চাইলে জবাবে কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব জানান, নিয়োগ বা এ সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও তার বক্তব্য সমর্থন করেন। স্বাভাবিক কারণেই নির্বাচন কমিশনাররা ২৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি ইউনোট পাঠিয়েছেন। তারা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কাজের বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার সম্পর্কে অবহিত হতে চেয়েছেন।’