• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অপমান করা হয়েছে, দেশবাসী বিব্রত: রিজভী

১:৫৪ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের মানুষের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি স্বাধীন দেশের মান মর্যাদা তিনি ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছেন। দেশের আত্মমর্যাদাকে ম্লান করে দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা খরচ করে প্রধানমন্ত্রী কলকাতা সফর করেছেন। বলা হচ্ছে, তিনি নাকি সরকারি আমন্ত্রণে কলকাতা সফর করেছেন। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা লজ্জিত, বিস্মিত যে, প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে কোনো অভ্যর্থনা পর্যন্ত দেয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী দূরের কথা সিনিয়র কোনো সচিবকেও পাঠানো হয়নি। তাকে রীতিমতো অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গোপন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো খেলা দেখার নাম করে যে মর্যাদাহানির নজির স্থাপিত হলো তা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে দেশবাসী বিব্রত।

বিএনপির এ নেতা বলেন, এখন কথায় কথায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নাকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আসলে অপ্রিয় হলেও বাস্তবতা এখন এমনি পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, শেখ হাসিনা এখন রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তথাকথিত উচ্চ পর্যায়েই ঘুরছেন, উড়ছেন। কিন্তু নিচে যে স্বাধীন দেশের আঠারো কোটি মানুষের স্বার্থ, সম্মান জড়িত সেগুলো এখন নতজানুর চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, জনগণের অধিকার হরণ করে, আগের রাতে ভোট ডাকাতি করে কিংবা বিনা ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়েও দাম্ভিকতার সহিত যিনি জনসম্মুখে বক্তব্য রাখতে পারেন, তিনি একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও পার্শ্ববর্তী দেশের কোনো প্রটোকল না পেলেও লজ্জিত না হয়ে যে উল্লসিত হবেন, এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে দেশবাসী লজ্জিত হয়। জাতি হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের মান-সম্মানের হানি ঘটলেও প্রধানমন্ত্রীর টনক নড়ে না।

রিজভী বলেন, দেশ থেকে নয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেল। বালিশ, খাতা, কম্বল কেনার নাম করে লুটে নেওয়া হলো কোটি কোটি টাকা। লুটেরারা অধরাই থেকে গেল। অথচ মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে দেশনেত্রীকে ধীরে ধীরে হত্যার চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্তের দায় কেউ এড়াতে পারবে না।