সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘ইসরায়েলি মডেলের আদলে কাশ্মীরে হিন্দু বসতি হবে’- ভারতীয় কূটনীতিক

৯:২৯ অপরাহ্ন | বুধবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৯ আন্তর্জাতিক
kasm

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভারতীয় দূতাবাসের এক অনুষ্ঠানে দেশটির কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তী বলেছেন, ফিলিস্তিনে ইসরায়েল যেভাবে ইহুদি বসতি স্থাপন করেছে, ঠিক সেই মডেল অনুসরণ করে জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দুদের জন্য স্থায়ী আবাসন গড়ে তোলা হবে।

ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের বিষয়ে মোদি সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সাথে তুলনা করলেন এক ভারতীয় কূটনীতিবিদ। এর আগে এমন প্রসঙ্গ উঠেছিল যে, ভারত ইসরাইল ও ফিলিস্তিনকে নকল করেই কাশ্মির নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তুলনাকে খারিজ করে দিয়ে ওই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে।

নিউইয়র্কে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে কাশ্মিরি পণ্ডিতদের প্রসঙ্গে কূটনীতিক সন্দীপ চক্রবর্তীকে বলতে বলা হলে তিনি কাশ্মিরি সংস্কৃতিকে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’ বলে মন্তব্য করেন এবং তিনি এও প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিতাড়িত কাশ্মিরি পণ্ডিতরা খুব তাড়াতাড়ি কাশ্মিরে ফিরে আসতে পারবেন। বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিশ্বে এ ধরণের ঘটনার উদাহরণ আছে … ইসরাইলিরা যদি এটি করতে পারেন … ’।

যদিও তার এই মন্তব্য নিয়ে মুখ খোলেনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

‘কেউ (শ্রোতাদের মধ্যে) ইহুদি ইস্যু সম্পর্কে … ইসরাইলের ইস্যু সম্পর্কে নানা কথা বলেছেন … তারা তাদের সংস্কৃতিকে তাদের দেশের বাইরেও দুই হাজার বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আমি মনে করি, আমাদেরও কাশ্মিরি সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কাশ্মিরি সংস্কৃতি হল ভারতীয় সংস্কৃতি … এটি হিন্দু সংস্কৃতি, বলেন সন্দীপ চক্রবর্তী। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কেউ কাশ্মির ছাড়া ভারতের কল্পনাও করতে পারি না’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কাশ্মীর ইস্যুতে তার এমন মন্তব্যের একটি ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সেটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। টুইটারে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে চক্রবর্তী বলেছেন, তার মন্তব্যকে প্রাসঙ্গিকতার বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, আমি বিশ্বাস করি, আমার জীবদ্দশায় আমাদের জমি ফিরে পাবো। আমাদের মানুষজন সেখানে ফিরে যাবেন। আমাদের কাশ্মীরি ভাইরা শরণার্থী শিবিরে বাস করছেন…তারা অবশ্যই নিজের জায়গায় ফিরে যেতে পারবেন।

‘ইতোমধ্যে এ ধরনের একটি মডেল আমাদের কাছে আছে; মধ্যপ্রাচ্যে আছে…যদি ইসরায়েলিরা এটি করতে পারেন…।’ গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তান যেভাবে বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে কাশ্মীর সমস্যা উত্থাপন করার চেষ্টা করেছিল, সেটি নিয়েও নিজের ভাষণে কিছু মন্তব্য করতে শোনা যায় ওই ভারতীয় কূটনীতিককে। কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তীর ওই মন্তব্যের ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একটি টুইট করেছেন।

ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, কিছু মানুষ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের ওপর নাখোশ হয়েছেন…মানবাধিকার পরিষদ, মার্কিন কংগ্রেসে এ বিষয়টি নিয়ে গেছেন…তারা সিরিয়া কিংবা ইরাক কিংবা আফগানিস্তানে গিয়ে ছবি তোলেন না কেন? কেন তারা এখানে আসছেন? আমরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করছি; কিন্তু তারা এতে খুশি নন।

গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের আগে এই উপত্যকায় ব্যাপক বিধি-নিষেধ ও কারফিউ জারি করে দেশটির ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার। ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বাতিলের পাশাপাশি ব্যাপক ধরপাকড় এখনও অব্যাহত আছে; অচলাবস্থা চলছে কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্প্রদায় কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের উদ্যোগকে স্বাগত জানান ৯০ দশকে দেশত্যাগী কাশ্মীরের পণ্ডিতরা।

সূত্র: এনডিটিভি।