• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আদালত আবেগের বশে রায় দিয়েছেন: ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী

৩:৫১ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল আবেগের বশে সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তার আইনজীবী ফারুক আহমেদ।

রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সজল নামে একজন সাংবাদিকের কাছেই এই ভিডিওটি গিয়েছিল। আমরা আদালতকে বলেছি, আমাদের ভিডিওটি মিসিং হয়েছে। এটি সজল ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইসে যায়নি এটি এক্সপার্ট রিপোর্ট।’

তিনি বলেন, ‘ওই ভিডিওটি আসামির মোবাইল থেকে ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে পাবলিকলি শেয়ার হয়নি। সুতরাং আসামির কোনো দোষ নেই।’

মোয়াজ্জেমের আইনজীবী আরও বলেন, ‘মামলার তিনটি ধারার মধ্যে একটি ধারায় আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এক্ষেত্রে আমরা আংশিক সফল। আমরা অবশ্যই উচ্চ আদালতে যাব। আদালত আবেগের বশে আজকের এই রায় দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের (আইসিটি) মামলায় ৮ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানার এই টাকা নুসরাতের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। এটি বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া কোনো মামলার প্রথম রায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওসি মোয়াজ্জেমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়। গত ২০ নভেম্বর মামলাটিতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয়েছিল।

গত ১৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা করেন। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

তদন্ত শেষে গত ২৭ মে পিবিআইর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই দিন ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলায় চলতি বছর ১৬ জুন ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার হন এবং ১৭ জুন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান।