ইরাকে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ৪৫

iraq
❏ শুক্রবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরাকের বাগদাদসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আড়াই শতাধিক।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) দেশটির তিন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির মুখে পড়তে হয় বিক্ষোভকারীদের। এতে গুলিতে মারা যান ৪৫ জন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশটির রাজধানী ও দক্ষিণাঞ্চল ব্যাপক বিক্ষোভে কেঁপে উঠেছে। ২০০৩ সালে মার্কিন হামলায় প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের পর এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক সহিংসতা।

ইরাকি সরকার ও তাদের সমর্থক প্রতিবেশী ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদে ক্ষোভ ঝাড়তে বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় মেতে ওঠেন প্রতিবাদকারীরা। জবাবে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব বলছে, গত অক্টোবরের শুরু থেকে এই বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৯০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি।

ইরাকি মানবাধিকার কমিশনের তথ্যানুসারে, বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাসিরিয়ায়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে ২৯ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে ও ধরপাকড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এলোপাতাড়ি গুলিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে রয়টার্সের খবর জানিয়েছে। বাগদাদের চার জন ও শিয়াদের পবিত্র শহর নাজাফে ১০ জন নিহত হয়েছেন।

এর আগে গত বুধবার রাতে ইরাকের সরকার বিরোধী আন্দোলন ভয়াবহ আকার নেয়। ওই রাতে নাজাফের ইরানি কনসুলেটে হামলা চালান ইরাকের সরকার-বিরোধী আন্দোলনকারীরা। তারা কনসুলেটের মূল ফটক ভেঙে ভিতরে ঢুকে আগুন লাগিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইরাকি বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের নিরস্ত করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৩৫ জন বিক্ষোভকারী আহত হন। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীরও ৩২ জন আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে কার্ফু জারি রয়েছে নাজাফে। কিন্তু বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ ইরাকের আর এক শহর নাসিরিয়ায়।

প্রসঙ্গত, কর্মসংস্থানের সংকট, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে গেল মাস থেকে রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরানসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ জানায় সরকারবিরোধীরা। এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ।