• আজ বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২১ অক্টোবর, ২০২১ ৷

৫দিন ধরে পেঁয়াজ শূন্য তানোর গোল্লাপাড়া বাজার

TANORE (RAJSHAHI)
❏ শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৯ রাজশাহী

অসীম কুমার সরকার, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৫দিন থেকে পেয়াজ শূন্য হয়ে পড়েছে রাজশহীর তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার তানোর পৌরসদরের গোল্লাপাড়া বাজার (হাটে) হঠাৎ করেই পেঁয়াজ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন বিক্রেতারা। খবর পেয়ে বাজার পরিদর্শনে আসেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা: নাসরিন বানু। এসময় ভ্রাম্যমান আদালতে ইউএনও বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে ৬ পেঁয়াজ দোকানীকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। দোকানীদের তিনি ১৫০ টাকা দরের বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি না করার নির্দেশ দেন। ওই সময় উপস্থিত অনেক বিক্রেতা ১৫০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেন এবং হুমড়ি খেয়ে অনেক ক্রেতা পেঁয়াজ কেনেন। কিন্তু ইউএনও  বাজার থেকে চলে যাওয়ার পর দোকানীরা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেন।  তারপর থেকে গত ৫দিন ধরে বাজারে পেঁয়াজ শূন্য।

সরজমিনে শুক্রবার গোল্লাপাড়া (হাটবার) কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা দেখা যায়, কোনো দোকানে পেঁয়াজ নেই। ক্রেতারা পেঁয়াজ কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। এমনকি আড়তদারদের ঘর বা গোডাউনেও পেঁয়াজ নেই। তবে রসুন, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, আলুসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ রয়েছে। যেসব দোকানের সামনে বড় ঝুড়িতে নিয়মিত পেঁয়াজ রাখা থাকতো, সেসব দোকানের সামনে পেঁয়াজের ঝুড়িও নেই। তবে, কোনো কোনো দোকানি খুব গোপনে ৩শ টাকা কেজি দরে কিছু পেঁয়াজ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে তানোর গোল্লাপাড়া বণিক সমিতির সভাপতি সারোয়ার জাহান বলছেন নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠলেই চলমান সংকট কেটে যাবে।

আবু রায়হান নামে একজন ক্রেতা বলেন, গোল্লাপাড়া বাজারে দফায়-দফায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু আজ এসে দেখি একেবারেই পেঁয়াজ নেই। এতে আমি খুব অবাক হয়েছি।

নাসরিন খাতুন নামে আরেক ক্রেতা বলেন, চারদিন আগে বাজার থেকে ২২০ টাকা কেজিতে দেশী পেঁয়াজ কিনেছি। দাম বেশি থাকায় বেশি নিতে পারিনি। তাই ফের পেঁয়াজ কিনতে এসেছি। কিন্তু, বাজারে এসে দেখি কোনো দোকানে পেঁয়াজ নেই।

ভুট্টু সরকার নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেঁয়াজ বিক্রেতারা বেশি দামে কিনে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করবে না। এখন আমরা পড়েছি বিপাকে। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ অতি দ্রুত টিসিবির মাধ্যমে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হোক।

কাঁচা বাজারের ওহাব স্টোরের ওহাব আলী বলেন, কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের ব্যাপারে প্রশাসন খুব সোচ্চার। প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে ১শ ৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে। কিন্তু পাইকারি বাজার থেকে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়। এত লোকসান করে কীভাবে পেঁয়াজ বিক্রি করব? আরেক দোকানি সালাম বলেন, দাম বেশি। তাই পাঁচদিন ধরে পেঁয়াজ বিক্রি করি না।

পাইকারি ব্যবসায়ী জিয়ারত আলী ও আব্দুল হান্নান বলেন, রাজশাহীর বাগমারার মোহনগঞ্জ, মোহনপুরের কেশোরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুকাম থেকে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনে কিভাবে ১৫০ টাকার নিচে বিক্রি করবো। জরিমানাও দিতে পারবো না। পেঁয়াজ বেচে লোকসানও করতে পারবো না। তাই পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি।

তবে শুধু তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারে নয় কালীগঞ্জ, সরনজাই, চাঁন্দুড়িয়া, তালন্দ, কৃষ্ণপুর, মুন্ডুমালা, কামারগাঁসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারের চিত্র একই রকম। তবে, স্থানীয় কিছু চাষির ক্ষেতে হওয়া আগাম পেঁয়াজের কালি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তার কেজিও পেঁয়াজের থেকে নেহাত কম নয়।

এ নিয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: নাসরিন বানু মোবাইল ফেনো জানান, এটা কালোবাজারি করার সুযোগ নেই। অতি মুনাফার জন্য জনগণকে জিম্মি করা চলবে না। সীমিত লাভে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হবে। যদি গোডাউনে মজুদ পেঁয়াজ থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা করা হবে। টিসিবির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন