সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আদালতে আইএস টুপি: দুই তদন্ত কমিটির দুই মত

১০:৪৭ অপরাহ্ন | শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ
tupi

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর লোগো সংবলিত টুপি কারাগার থেকে নিয়ে আসেনি বলে নিশ্চিত হয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটি বলছে, কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেই আইএসের লোগো সংবলিত টুপি আদালতে নিয়ে এসেছিল জঙ্গিরা।

দুই সংস্থার পক্ষ থেকে গঠন করা দুই তদন্ত কমিটির ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

শনিবার জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএসের চিহ্নসংবলিত টুপির বিষয়ে কারা কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি নেই। জঙ্গিরা কারাগার থেকে টুপি সংগ্রহ করেনি। তবে কীভাবে হলি আর্টিসান মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যান ও রাজীব গান্ধীর মাথায় ওই টুপি গেল, সে ব্যাপারে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

কারা উপমহাপরিদর্শক টিপু সুলতান বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ এটা নিশ্চিত হয়েছে, আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপি জঙ্গিরা কারাগার থেকে পায়নি।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, আইএস টুপির রহস্য বের করতে তারা সিসিটিভির ফুটেজসহ অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। এতে আইএস প্রতীকের কোনো টুপির অস্তিত্ব ধরা পড়েনি।

বুধবার গুলশানের হলি আর্টিসান হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর দুই জঙ্গির মাথায় ‘আইএস টুপি’ দেখা যায়। কীভাবে এত নিরাপত্তা ও পুলিশি পাহারার মধ্য ওই টুপি জঙ্গিরা পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে এ ঘটনার তদন্তে কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ পৃথক তদন্ত কমিটি গ‎ঠন করে।

এ দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ওই জঙ্গি যখন কারাগার থেকে এসেছে তখন এই টুপিটি তার সঙ্গেই ছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। জঙ্গি রিগ্যান নিজেও বুধবার এজলাস থেকে প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় জানিয়েছিল, কারাগার থেকেই সে আইএসের লোগো সংবলিত টুপিটি নিয়ে এসেছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৭ নভেম্বর বুধবার দুপুর ১২টার পর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে যে সাত জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে তাদের একজন রিগ্যান।

ওইদিন সকালে আরও সাত আসামির সঙ্গে রিগ্যানকেও কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে। সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে যখন তাদের প্রিজন ভ্যান থেকে নামানো হয়, তখন রিগ্যানের মাথায় কোনো টুপি ছিল না। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। দুপুর ১২টার দিকে রায় ঘোষণার আগে হাজতখানা থেকে যখন আসামিদের এজলাসে নেয়া হয়, ঠিক তখন রিগ্যানের মাথায় দেখা যায় কালো একটি টুপি। সেই টুপিতে কোনো ধরনের চিহ্ন বা প্রতীক দেখা যায়নি। তবে রায়ের পর এজলাস থেকে যখন বের করা হয় আসামিদের, তখন রিগ্যানসহ দুই জঙ্গির মাথায় অন্য একটি টুপি দেখা যায়। ওই টুপিতে যে প্রতীক খচিত ছিল, সেটি জঙ্গি সংগঠন আইএস তাদের লোগো হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

এ দিকে দুই জঙ্গির পকেটে সেই আইএস টুপি কীভাবে এল, তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সারা দেশে। এই টুপির রহস্য ভেদ করতে গত ২৭ নভেম্বর বুধবার আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ।