• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রংপুর বিভাগে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট শুরু, দুর্ভোগ চরমে

১১:০৪ পূর্বাহ্ন | রবিবার, ডিসেম্বর ১, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর প্রতিনিধি- জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ও ট্যাংক লরির ভাড়া বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে আজ ভোর ৬ টা থেকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানী তেল পেট্রোল পাম্প মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

এদিকে সকাল থেকে রংপুর মহানগরীর পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। কিছু পাম্প খোলা থাকলেও জ্বালানি তেল বিক্রয় সেবা বন্ধ রয়েছে।

ধর্মঘটের কারণে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল বিপণন বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল চালকরাসহ বিভিন্ন পরিবহনের শ্রমিকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ধর্মঘটের বিষয়টি বেশির ভাগ লোকের অজানা থাকায় পাম্পে তেল নিতে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক গ্রাহক কর্মবিরতির নামে ডাকা এই ধর্মঘটে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হবেন বলে অভিযোগ করছেন।

এই ধর্মঘট রংপুর বিভাগ ছাড়াও খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সব ডিপোতেও চলছে। এতে জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের আহ্বান করেছে।

ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সোহরাব চৌধুরি টিটু বলেন, কেন্দ্রিয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে।

এদিকে পেট্রোল পাম্প মালিক ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতি রংপুর বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক শাহ্ মো. সেলিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের ধর্না দিয়েও কোন কাজ হয়নি। কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আলোচনায় বসার নাম বহুবার কালক্ষেপণ করা হয়েছে।

সুরমা ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. আতিকুর রহমান জানান, প্রতিমাসে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন এবং কেরাসিন মিলে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা চার লাখ পাঁচ হাজার লিটার। অথচ তিনি শতকরা ২৫ ভাগ জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। এতে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এরকম বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কারণে তারা ১৫ দফা দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন।

রংপুর জ্বালানি তেল সংরক্ষণাগার মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতায় রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে মোট ফিলিং স্টেশনের রয়েছে ১৫২টি। এর মধ্যে রংপুরে রয়েছে ৮৫টি। এসব ফিলিং স্টেশন মজুদের ক্ষমতা রয়েছে ডিজেল ২৭ লাখ, কেরোসিন ১০ লাখ ৬০ হাজার, পেট্রোল ৬ লাখ ও অকটেন ৬ লাখ ৮০ হাজার লিটার। চাহিদা রয়েছে ডিজেল ১ কোটি ২৫ লাখ ডিজেল, পেট্রোল ২৫ লাখ ৫০ হাজার ও অকটেন ৪ লাখ ৪০ হাজার লিটার। কিন্তু চাহিদার তুলনায় রংপুরে অর্ধেকেরও কম জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।