সংবাদ শিরোনাম
তারেক এতো দূর্নীতি, অন্যায় ও মানুষ খুন করেছে তার সাহস নাই বাংলাদেশে আসার: কৃষিমন্ত্রী | ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায়ও মিলেছে মজনুর সম্পৃক্ততা | কুকরি মুকরিতে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে যোগ হয়েছে রংবেরঙের নৌকা | ভারতের পাটনায় বোরকা পরে কলেজে আসলে জরিমানা | লক্ষ্মীপুর ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ৭০বছরের বৃদ্ধ গ্রেফতার | সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে জাবি ছাত্রের অনশন | সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান | ‘সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিএসএফ দুঃসাহস দেখাতে পারছে’ | শাহজাদপুরে ইয়াবা বিক্রেতা ও গরুচোরসহ ৭জন আটক | ইশতেহার অনুষ্ঠানে ফখরুল-তাবিথকে আমন্ত্রণ করলেন আতিকুল |
  • আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার চার বছরেও নির্মাণ হয়নি নওগাঁ বাস টার্মিনালের নতুন ভবন

১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৯ রাজশাহী
Naogaon

নাজমুল হক নাহিদ, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বালুডাঙা বাস টার্মিনালের পুরনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় চার বছর আগে। কিন্তু এরপর নতুন করে নির্মাণ তো দূরের কথা, ভবনটি সংস্কারও করেনি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থার মধ্যেই জরাজীর্ণ ভবনসহ টার্মিনালটি প্রতি বছর পৌরসভা থেকে ইজারা দেয়া হচ্ছে। ফলে ভবন ধসের মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এখানে বাসে ওঠানামা করছে হাজারো মানুষ।

নওগাঁ শহরের যানজট নিরসনে আশির দশকে বাস টার্মিনালটি বালুডাঙায় স্থানান্তর করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী প্রয়াত আবদুল জলিল। টিকিট কাউন্টার, যাত্রীছাউনি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ নির্মাণ করা হয় টার্মিনাল ভবন। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ভবনটি বর্তমানে একেবারেই জীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে ঢালাইয়ের লোহার রড। পলেস্তারা খসে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পৌরসভা থেকে সাইনবোর্ড টানানো হয়। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি অপসারণ কিংবা নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

আরো জানায়, এ অবস্থার মধ্যেই প্রতি বছর বালুডাঙা বাস টার্মিনালটি ইজারা দেয়া হচ্ছে। চলতি ১৪২৬ বাংলা বছরে পুরনো ভবনসহ টার্মিনালটি ইজারা দেয়া হয়েছে ৭ লাখ ৫১ হাজার টাকায়। গত বছর ইজারার পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

টার্মিনালের পশ্চিম পাশে অদূরেই মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ চাইলে যাত্রীদের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির কথা চিন্তা করে পুরনো ভবনের স্থলে এ ভবনে টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। তাদের দাবি, যেন দ্রুত পুরনো টার্মিনাল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। আর নতুন ভবন নির্মাণকালে মোটর শ্রমিকদের ভবনটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

রুসো সাব্বির নামে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, চাকরির কারণে প্রায় প্রতিদিনই এ টার্মিনালে এসে বাস ধরতে হয়। টার্মিনাল ভবনটি বহু আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিত ছিল। ছাদের প্রায় পুরো অংশের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে। ফলে যেকোনো সময় ছাদ ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পুরনো ভবনের হোটেল মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ২০ বছর ধরে তিনি ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে হোটেল পরিচালনা করছেন। প্রতি বছর তাকেই এ কক্ষ সংস্কার করতে হয়। মূলত এ ভবন দেখভালের জন্য কেউ নেই বললেই চলে।

একই কথা জানান আরেক দোকানি নুর হোসেন। তিনি বলেন, চার বছর ধরে তিনি টার্মিনাল ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে দোকান করেছেন। দোকানের ওপর ছাদের পলেস্তারা নেই। পৌরসভা থেকে মাঝেমধ্যে লোক এসে দেখে যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

নওগাঁ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বহুবার পৌরসভা মেয়রকে বাস টার্মিনালের পুরনো ভবনের বেহাল দশা ও ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু ভবনটির বিষয়ে আজ পর্যন্ত তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। প্রতি বছরই ভবনসহ টার্মিনাল ইজারা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ধরনের উন্নয়ন বা সংস্কার করা হচ্ছে না। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি আমরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, টার্মিনালের পশ্চিম পাশে আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে টার্মিনালটি বেশ কয়েকবার চালু করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁ পৌরসভা মেয়র আলহাজ নজমুল হক সনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন তৈরি করা হবে। এজন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

Loading...