• আজ ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

টিসিবির গুদামেই নষ্ট হচ্ছে বিদেশ থেকে আনা পেঁয়াজ

১১:২৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- নানামুখী উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর পেঁয়াজের লাগামহীন বাজার শান্ত করতে বিমানে করে বিদেশ থেকে আনা পেঁয়াজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদামেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের কাছে যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি, তার ৩০ শতাংশই নষ্ট থাকছে। এক কেজি পেঁয়াজের মধ্যে গড়ে ৩০০ গ্রাম পেঁয়াজ নষ্ট পাচ্ছেন চট্টগ্রামের ক্রেতারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এভাবে পচা পেঁয়াজ পাওয়ায় টিসিবির ওপর ক্ষোভও ঝাড়ছেন তারা।

এদিকে পচা পেঁয়াজ বিক্রি করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন টিসিবির ডিলাররাও। কয়েক জায়গায় ক্রেতাদের সঙ্গে ডিলারের নিয়োগকৃত কর্মচারীদের হাতাহাতিও হয়েছে। ডিলাররা বলছেন, প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি পেঁয়াজ নষ্ট পাচ্ছেন তারা। জাতীয় দৈনিক সমকালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে একজন ডিলারকে প্রতিদিন এক হাজার কেজি পেঁয়াজ দিচ্ছে টিসিবি। নগরীর ১২টি পয়েন্টে এভাবে ১২ টন বা ১২ হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন তারা প্রতিদিন।

টিসিবির বিক্রি করা এসব পেঁয়াজ আনা হয়েছে বিমানপথে কিংবা সমুদ্রপথে। সমুদ্রপথে মিসর ও তুরস্ক থেকে আনা হয় রেফার্ড কনটেইনারে। এটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষায়িত কনটেইনার। ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনারে সাধারণত ২৭ থেকে ২৮ টন পেঁয়াজ আনা হয়। কার্গো বিমানে আসা পেঁয়াজও থাকে বিশেষায়িত অবস্থায়। এ জন্য বিমান ও সমুদ্রপথে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম।

ব্যবসায়ীরাও বলছেন, মিয়ানমারের পেঁয়াজের গুণগতমান কিছুটা খারাপ থাকলেও মিসর কিংবা তুরস্কের পেঁয়াজ পচা থাকে না। কিন্তু টিসিবির ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টো ঘটনা।

টিসিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ও উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা খুব কঠিন। মিসর ও তুরস্ক থেকে আসা পেঁয়াজের মান ভালো। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় আমরা গুদামে ভালোভাবে তা সংরক্ষণ করতে পারছি না। সীমিত জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারপরও হয়তো কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। ডিলাররা যতটা দাবি করছে, নষ্ট পেঁয়াজের পরিমাণ অতটা হবে না।’

তবে টিসিবির বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে ডিলার মোহাম্মদ ইউছুফ বলেন, ‘টিসিবি থেকে পেঁয়াজ এনে প্রতিদিনই ক্রেতাদের গালাগাল শুনতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তারা যদি এক কেজি পেঁয়াজের মধ্যে ৩০০ গ্রামই পচা কিংবা নষ্ট পান, তাহলে তারা তো ক্ষুব্ধ হবেনই। প্রতিদিন এক হাজার কেজি পেঁয়াজের মধ্যে অন্তত ৩০০ কেজি পচা পাচ্ছি আমি। টিসিবিকে পেঁয়াজের গুণগতমান ঠিক রাখতে আরও নজর দিতে হবে।’

পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক করতে চট্টগ্রামে ১৯ নভেম্বর থেকে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে টিসিবি। শুরুতে ছয়জন ডিলারকে ছয় টন বা ছয় হাজার কেজি পেঁয়াজ খোলা বাজারে বিক্রি করতে দেন তারা। ৩০ নভেম্বর থেকে এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিনে ১০ টন করা হয়। ২ ডিসেম্বর থেকে আরেক দফা বাড়িয়ে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় দিনে ১২ টন। এখন ১২ জন ডিলার নগরীর ১২টি পয়েন্টে প্রতিদিন নিয়ে যাচ্ছেন ১২ টন পেঁয়াজ।

নগরীর আগ্রাবাদের সিজিও বিল্ডিং, জামালখানের প্রেসক্লাব, দামপাড়ার ওয়াসা মোড়, খুলশী থানা সংলগ্ন জিইসি মোড়, কোতোয়ালি থানার মোড়, বায়েজিদ থানার মোড়, হালিশহর থানার মোড়, পতেঙ্গা থানার মোড়, আকবরশাহ থানার মোড়, বন্দর থানার মোড়, ডবলমুরিং থানার মোড় ও ইপিজেড থানার মোড়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি।

আগ্রাবাদ সিজিও বিল্ডিংয়ের সামনে টিসিবির পেঁয়াজ কিনতে আসা হোটেল কর্মচারী আবু বক্কর বলেন, ‘এক কেজি পেঁয়াজের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগই নষ্ট থাকে। তুরস্ক ও মিসরের পেঁয়াজ আকারে বড় হওয়ায় চার-পাঁচটা মিলেই এক কেজি হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি পেঁয়াজ যদি নষ্ট পড়ে তাহলে অনেক লস হয় আমাদের।’

তার এ কথা মাটিতে না পড়তেই টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক সোবহান মিয়া বলেন, ‘ভালো পেঁয়াজের সঙ্গে পচা পেঁয়াজ মিশিয়ে দেয় ডিলার। অনেক বলার পরও তারা পচা পেঁয়াজ আলাদা করে দেয় না। ৪৫ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ পেলেও কোনো একটি নষ্ট পড়লে মন খারাপ হয়ে যায়।’

শুধু সিজিও বিল্ডিং নয়, সাধারণ ক্রেতাদের অভিন্ন অভিযোগ শোনা গেছে ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও বায়েজিদ এলাকাতেও। টিসিবির পচা পেঁয়াজ নিয়ে এসব এলাকায়ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ক্রেতারা। কয়েকজন ডিলার পচা পেঁয়াজ আলাদা করে রাখছেন। কিন্তু এটির পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

Skip to toolbar