• আজ ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাউন্সিলের অভিযোগ এনে সংবাদ সন্মেলন করলেন রাজবাড়ী ১ আসনের এমপি

৬:২৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ ঢাকা
MP

খন্দকার রবিউল ইসলাম,রাজবাড়ী প্রতিনিধি: গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে একতরফা ভাবে রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ইউনিট কমিটিগুলো গঠনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজবাড়ী এক আসনের এমপি কাজী কেরাতম আলী।

৭ ডিসেম্বর শনিবার জেলা শহরের পালকি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকবর আলী মর্জি, হেদায়েত আলী সোহরাব, রাজবাড়ী পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী, যুগ্ম-সম্পাদক এ্যাডঃ রফিকুল ইসলাম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এসএম নওয়াব আলী, মহসনি উদ্দিন বতু, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম পিয়াল প্রমূখ।

লিখিত বক্তব্যে সাংসদ কাজী কেরামত আলী বলেন, কাউন্সিলের দিন তারিখ, কাউন্সিলর, ডেলিগেটস তালিকা তৈরী না করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুল হাকিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জামাত, বিএনপি , ফ্রিডম পার্টি ও অন্যান্য দল থেকে আগত হাইব্রীডদের নিয়ে নেতা নির্বাচন করছেন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। যেসব নেতাকর্মী এর প্রতিবাদ করেছেন তারা সংগঠন থেকে বহিষ্কার ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব জটিলতার কারণে এবং অগঠনতান্ত্রিক কার্যকলাপের বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অবগত করা হলে তিনি রাজবাড়ী জেলার সর্বস্তরের সম্মেলন জাতীয় কাউন্সিলের আগে না করার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুল হাকিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করলে উভয়পক্ষকে সমঝোতা করে জেলা আওয়ামী লীগের মিটিং ডেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট ঠিক করে কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা দেয়ার নির্দেশনা দেন। সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাদের ইচ্ছেমতো কাউন্সিলর তালিকা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করেছেন। কাউন্সিলর তালিকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের কাউন্সিলর করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাচ্চু রাজাকারকে রাজবাড়ীতে লুকিয়ে রেখে ভারতের বর্ডার পার করার দায়িত্বে নিয়োজিত রমজান আলী খানকে পুনরায় সদর উপজেলার সভাপতি করার প্রক্রিয়াকেও আমরা তীব্র নিন্দা করি।

তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে একদল উশৃঙ্খল যুবক আমাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। সংবাদ সম্মেলন বানচাল করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। আমরা ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছি। উশৃংঙ্খল যুবকদের তালিকা করে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে দেবেন ও বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী বলেছেন সব কমিটি গঠনতন্ত্র মেনে করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটাভুটির মাধ্যমে কমিটি করা হচ্ছে। সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের কেউ অতিথি করা হচ্ছে সম্মেলনে। রাজবাড়ীর-১ আসনের সাংসদও সম্মেলনে অতিথি হয়েছেন। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাংগঠনিক বিরোধী বক্তব্য দেওয়া অনভিপ্রেত। যারা এসব বক্তব্য দেয় তাঁরা জনবিচ্ছিন্ন।

তিনি আরো বলেন, আজ ৭ ডিসেম্বর শনিবার গোয়ালন্দ পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সকল প্রার্থীকে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে।তাছাড়াও তাদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য সময় ও দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় নির্বাচন দেওয়া হয়।পরে সকল প্রার্থীর উপস্তিথিতে স্বচ্ছ ভাবে ভোটাররা তাদের ভোট অধিকার প্রযোগ করে।!

Skip to toolbar