সংবাদ শিরোনাম
তারেক এতো দূর্নীতি, অন্যায় ও মানুষ খুন করেছে তার সাহস নাই বাংলাদেশে আসার: কৃষিমন্ত্রী | ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায়ও মিলেছে মজনুর সম্পৃক্ততা | কুকরি মুকরিতে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে যোগ হয়েছে রংবেরঙের নৌকা | ভারতের পাটনায় বোরকা পরে কলেজে আসলে জরিমানা | লক্ষ্মীপুর ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ৭০বছরের বৃদ্ধ গ্রেফতার | সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে জাবি ছাত্রের অনশন | সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান | ‘সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিএসএফ দুঃসাহস দেখাতে পারছে’ | শাহজাদপুরে ইয়াবা বিক্রেতা ও গরুচোরসহ ৭জন আটক | ইশতেহার অনুষ্ঠানে ফখরুল-তাবিথকে আমন্ত্রণ করলেন আতিকুল |
  • আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কবর থেকে উদ্ধার করা শিশুটি এখন পুরোপুরি সুস্থ

৫:০০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারতে মাটির পাত্রে রেখে জীবন্ত কবর দেয়া যে মেয়ে শিশুটিকে গত অক্টোবর মাসে উদ্ধার করা হয়েছিল, সে এখন পুরোপুরি সুস্থ বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন তার রক্তে দূষণ এবং বিপদজনক মাত্রার প্লাটিলেট কাউন্ট ছিল।

তবে এখন তার ওজন বেড়েছে, শ্বাসপ্রশ্বাস এবং প্লাটিলেট কাউন্ট স্বাভাবিক হয়েছে, বলছেন তার চিকিৎসক রাভি খান্না এখনো তার বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাধ্যতামূলক একটি নির্দিষ্ট সময় পরে তাকে দত্তক দেয়া হবে। এখন সে উত্তর প্রদেশের বারেইলি জেলার শিশু কল্যাণ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

অনেকটা আকস্মিকভাবে ওই শিশুটিকে একজন গ্রামবাসী খুঁজে পান, যিনি তার সদ্য মারা যাওয়া নবজাতক শিশুকে দাফন করতে কবর খুঁড়ছিলেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সাধারণত মৃতদেহ পুড়িয়ে থাকে, তবে শিশুদের অনেক সময় কবর দেয়া হয়।

ওই গ্রামবাসী জানিয়েছিলেন, তিনি যখন প্রায় তিন ফুট গর্ত খুঁড়েছিলেন, তখন তার শাবলটি একটি মাটির পাত্রে আঘাত করে এবং সেটি ভেঙ্গে যায়। তখন তিনি একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। যখন তিনি পাত্রটি বাইরে বের করে আনেন, তিনি দেখতে পান ভেতরে একটি শিশু রয়েছে।

প্রথমে ওই শিশুটিকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুইদিন পরে তাকে ড. খান্নার শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ভালো চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটির অপরিণত অবস্থায় জন্ম হয়েছে, সম্ভবত তার বয়স ছিল ৩০ সপ্তাহ। যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তার ওজন ছিল মাত্র ১১০০গ্রাম। তখন তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে, তার রক্তশূন্যতা রয়েছে। এছাড়া তার ঠাণ্ডা এবং হাইপোর (রক্তে চিনি শূন্যতা) সমস্যা রয়েছে।

গত মঙ্গলবার যখন তাকে আমরা জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি, তার ওজন বেড়েছে ২.৫৭ কেজি। সে এখন বোতল থেকে দুধ খেতে পারছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গিয়েছে,” বলছেন ড. খান্না।

শিশুটি কতক্ষণ ধরে কবর দেয়া অবস্থায় ছিল, সেটি জানা যায়নি। চিকিৎসকরা বলেছেন, তারা শুধু ধারণা করতে পারেন যে, শিশুটি কীভাবে টিকে ছিল। ড. খান্না বলেছেন, তাকে হয়তো তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে কবর দেয়া হয়েছিল এবং সে নিজের শরীরের বাদামী চর্বির ওপরেই নির্ভর করে টিকে ছিল।

তলপেটে, উরু এবং গালে এ ধরণের চর্বি নিয়ে শিশুদের জন্ম হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এর ওপর নির্ভর করে শিশুরা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাকে হয়তো দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে কবর দেয়া হয়েছিল এবং উদ্ধার করা না হলে সে হয়তো আর এক বা দুই ঘণ্টা টিকে থাকতে পারতো।

মাটির পাত্রে থাকা ফুটোর কারণে হয়তো সেখানে বাতাস চলাচল করেছে, ফলে সে অক্সিজেন পেয়েছে। অথবা নরম মাটির ভেতর থেকেও সে অক্সিজেন পেয়ে থাকতে পারে।

গত অক্টোবর মাসে ‘অজ্ঞাতনামা’ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ এবং নবজাতকটির বাবা-মায়ের সন্ধান করতে শুরু করে। পুলিশ বলেছে, তাদের বিশ্বাস শিশুটিকে কবর দেয়ার সঙ্গে তার বাবা-মা জড়িত আছে, কারণ এই ঘটনাটি এতো আলোচনার জন্ম দিলেও, কেউ শিশুটির অভিভাবকত্ব দাবি করতে এগিয়ে আসেনি।

তবে এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, তা জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা। তবে বিশ্বের যেসব দেশে লিঙ্গ বৈষম্য সবচেয়ে বেশি, ভারত তার অন্যতম। নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সামাজিকভাবে বৈষম্য করা হয় এবং বিশেষ করে দরিদ্র সমাজগুলোয় মেয়েদেরকে আর্থিক বোঝা বলে মনে করা হয়।

Loading...