চড়া দাম পেতে পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছে রংপুর অঞ্চলের কৃষক

১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ ফিচার

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর প্রতিনিধি- ভালো দামের আশায় পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছে রংপুর অঞ্চলের কৃষক। কন্দ লাগিয়ে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী চাষীরা ইতোমধ্যে ফসলের উচ্চ মূল্য পাওয়ায়, অধিক পরিমান জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তারা।

কেউ কেউ সাথী ফসল হিসেবে পেঁয়াজ চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে ফসল ঘরে তোলার সময় পেঁয়াজের আমদানী বন্ধ ও পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা। পেঁয়াজ আবাদে কৃষকদের পরামর্শসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সরবরাহ সংকটে সারাদেশে আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। দেশে দীর্ঘ সময় আলোচনায় রয়েছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের যোগান দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আচমকা ভারত পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ায় পেঁয়াজ সংকটের কবলে পড়ে দেশ।

এনিয়ে সরকারের মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজ দেশেই উৎপাদন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ফোরামে। ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরকে পেঁয়াজের আবাদ বাড়ানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে। কৃষি দপ্তরগুলোর পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তোলা ও পেঁয়াজের উচ্চ মূল্যের কারণে রংপুর অঞ্চলের ৫টি জেলার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

আজ মঙ্গলবার রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজ আবাদের জন্য ইতোমধ্যে ছোট ছোট প্লট করে চারা উৎপাদন করেছে কৃষক। কিছু কিছু নার্সারীতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করেছে পেঁয়াজের চারা। কন্দ লাগিয়ে আগাম যেসব পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছিল সেসব পেঁয়াজ উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছেন কৃষকরা। পেঁয়াজের দাম বাড়ায় আলুর সাথে কেউ কেউ সাথী ফসল হিসেবে পেঁয়াজ-রসুনেরও চাষ করেছেন।

কন্দ পেঁয়াজ চাষ করে উচ্চমূল্য পাওয়ায় খুশি ওই এলাকার কৃষক সমসের আলী বলেন, আমি রাস্তার ধারে ১৫ শতক জমিতে কন্দ পেঁয়াজ লাগিয়েছিলাম। প্রতি ধারা (৫ কেজি) পেঁয়াজ সাড়ে ৩’শ থেকে ৪’শ টাকায় বিক্রি করেছি। যেহেতু দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে, তাই আবার চারা পেঁয়াজের ফাঁকে ফাঁকে পানি কুমড়ার লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই ১৫ শতক জমির পেঁয়াজ আমি ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আমার দাবী ফসল ঘরে উঠার সময় যেন বিদেশ হতে পেঁয়াজের আমদানী বন্ধ করে দেয়া হয়। না হলে আমরা পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাব না।

একই এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের অনেক দাম উঠেছে। তাই আলুর ফাঁকে ফাঁকে পেঁয়াজ লাগিয়েছি। বাড়ির লোকজনের চাহিদা মিটিয়ে যদি কিছু থাকে তাহলে তা বাজারে বিক্রি করব।

পীরগঞ্জ উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের কৃষক জয়নাল বলেন, পিঁয়াজের যে দাম, তা তো কিনার নাগালের বাহিরে চলি গেছে। সেইজন্যে হামরা পিঁয়াজ আবাদের প্রস্তুতি নিছি। বীজ লাগে ফেলাইছি। পৌষ মাসোত জমিত পিঁয়াজ লাগামো, ২ মাস পর ঘরোত তুলবার পারমো। পিঁয়াজ লাগেয়া হইবে কি, রাখার জন্যে হিমাগার তো নাই। পিঁয়াজ সারা বছর রাখা গেইলে অন্য দ্যাশ থাকি তো আর আনা নাগিল না হয়। রংপুরোত ম্যালা সবজি, পিঁয়াজ, রসুন, আদা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মোর অনুরোধ এইগুল্যা রাখবার জন্যে একটা হিমাগার করেন। তাইলে দ্যাশের টাকা দ্যাশোত থাকবে, বাহির থাকি পিঁয়াজ আনা লাগবার ন্যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী সময়ের কন্ঠস্বর প্রতিবেদককে বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উদ্বুব্ধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক জমিতে পেঁয়াজের চারা লাগানো হয়েছে। এবার আশাকরছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হবে। প্রণোদনার মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের ৬৬০ জন কৃষককে প্রতিজনকে এক বিঘা করে পেঁয়াজ আবাদের জন্য সার ও বীজ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব অর্থায়নে ৩৩০ জন চাষীকে ১ বিঘা করে বীজ ও সার সহায়তা দেয়া হয়েছে। কৃষকদের পেঁয়াজের ভাল জাত আবাদ ও পরিচর্যার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

Loading...