সংবাদ শিরোনাম
মীরডাঙ্গীর ব্রীজটিই যেন গ্রামবাসির দুর্ভোগের একমাত্র কারণ! | তারেক এতো দূর্নীতি, অন্যায় ও মানুষ খুন করেছে তার সাহস নাই বাংলাদেশে আসার: কৃষিমন্ত্রী | ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায়ও মিলেছে মজনুর সম্পৃক্ততা | কুকরি মুকরিতে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে যোগ হয়েছে রংবেরঙের নৌকা | ভারতের পাটনায় বোরকা পরে কলেজে আসলে জরিমানা | লক্ষ্মীপুর ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ৭০বছরের বৃদ্ধ গ্রেফতার | সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে জাবি ছাত্রের অনশন | সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান | ‘সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিএসএফ দুঃসাহস দেখাতে পারছে’ | শাহজাদপুরে ইয়াবা বিক্রেতা ও গরুচোরসহ ৭জন আটক |
  • আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বছরের প্রথম দিনই চার কোটি ২৭ লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে বিনামূল্যের নতুন বই

১:৩১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ ফিচার

রাজু আহমেদ, ষ্টাফ রিপোর্টার- আসছে আগামী নতুন বছরের প্রথম দিনেই বিনামূল্যে নতুন বই পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের চার কোটি ২৭ লাখ শিক্ষার্থী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বই উৎসব’ উদ্বোধন করবেন। ২০২০ সালের প্রথম দিন অর্থাৎ ১লা জানুয়ারি উৎসবের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দেয়া হবে।

এদিকে সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রখে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে বই উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় দুটি পৃথকভাবে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিক উৎসবের আয়োজন করবে বলেও জানা গেছে। অনুষ্ঠানে স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীগণ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বছরের প্রথম দিনই দেশের চার কোটি ২৭ লাখ শিশুর হাতে ‘বই উৎসবের’ মাধ্যমে বিনামূল্যের নতুন বই তুলে দেয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা-উপজেলায় পৌঁছে গেছে বিনামূল্যের বই।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের প্রথম দিনে চার কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিতরণ করা হবে ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ ১৪ হাজার ১৯৭টি বই। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের প্রায় ৩৩ লাখ শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৬টি বই।

প্রাথমিকের দুই কোটি চার লাখ ৪১ হাজার ৫৯৫ শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে ৯ কোটি ৮৫ লাখ পাঁচ হাজার ৪৮০টি বই। এছাড়া দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫টি নতুন বই মাদ্রাসার ইবতেদায়ির প্রায় ৩৩ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হবে। মাধ্যমিকের বাংলা ভার্সনের প্রায় পৌনে এক কোটি শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে ১৮ কোটি এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৩৯টি বই। ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯২টি বই দেয়া হবে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি এবং গারো ভাষাভাষী ৯৭ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থীকে দুই লাখ ৩০ হাজার ১৩০টি বই দেয়া হবে। ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ ১৪ হাজার ১৯৭টি বই তৈরিতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ১১ কোটি টাকারও বেশি। প্রায় ৩৬ কোটি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা এবং একই সময়ে এক কোটি ২৫ লাখেরও বেশি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো সবসময়ই একটি কঠিন কাজ।

ইতোমধ্যে শতভাগ বই দেশের সকল উপজেলাগুলোতে পৌঁছে গেছে। উৎসবের যাবতীয় আয়োজনও ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারো উৎসবমুখর আয়োজনের মাধ্যমে বই বিতরণ করা হবে। প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, নির্বিঘ্নে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বছরের প্রথম দিন এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে এক বিরল নজির স্থাপন করেছে।

দেশের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন সরকার উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করে আসছে। ওই বছর দেশে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিলো প্রায় আড়াই কোটির মতো।

Loading...