🕓 সংবাদ শিরোনাম

ইসরাইলকে সমর্থন দিয়েছে বিশ্বের ২৫টির মতো দেশ!বাংলাদেশিদের ভালোবাসা দেখে বিস্মিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনের প্রতিযোগিতায় ট্রাক ও পিকআপখেলার আগে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন কুড়িগ্রামের ক্রিকেটারেরাপাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকেকর্মস্থলে ফিরতে গাদাগাদি করে রাজধানীমুখী লাখো মানুষশেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যুএক বিয়ে করে দ্বিতীয় বিয়ের জন্যে বড়যাত্রীসহ খুলনা গেল যুবক!আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী! চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যাইসরাইলীয় আগ্রাসনের  বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্বের নিন্দার নেতৃত্বে সৌদি আরব

  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

দিনাজপুরে শীতের পিঠার জমজমাট ব্যবসা

Dinajpur
❏ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯ রংপুর

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর: শীতের আমেজে দিনাজপুরে পিঠাপুলি তৈরীর ধুম পড়েছে।সর্বত্রই চলছে,নতুন ধানের পিঠাপুলির উৎসব।। চারদিক পিঠার ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে। বারো মাসে তেরো পার্বণ বাঙালির মানসপটে জায়গা করে নিয়েছে। একেক পার্বণকে ঘিরে যেমন নানান আয়োজন করা হয়, তেমনি বাঙালির ঘরে ঘরে এ শীতের কুয়াশা ভেজা সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা আর পুলির আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যগতভাবেই।

শীতের এই পিঠে উৎসবকে ঘিরে দিনাজপুর শহরের চিত্রটাও একই।শীত মানেই তো পিঠাপুলির দিন। শীতের আমেজে এখন পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। হাড় কাঁপানো শীতে জমে উঠেছে রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকানগুলো।জেলার বিভিন্ন স্থানে ও রাস্তার ধারে ছোট ছোট পিঠার দোকান সাজিয়ে বসছে বিক্রেতারা। অনেকে আবার পেশা পরিবর্তন করেও বসছেন পিঠা বিক্রির দোকান নিয়ে। বেচাকেনাও হচ্ছে বেশ ভালোই।এই শীতে ঘন কুয়াশার মাঝে সৌখিন ও স্বল্প আয়ের মানুষ চুলার আশপাশে ঘিরে বসে মনের আনন্দে আগুন পোহানোর পাশাপাশি পিঠার স্বাদও গ্রহণ করছেন। চলতি পথে থেমে কেউ বা আড্ডায় বসেই সকাল-সন্ধ্যার নাস্তাটা সেরে নিচ্ছেন গরম গরম ভাঁপা পিঠা কিংবা চিতই পিঠা দিয়ে। পৌষের তীব্র শীতে জেলার বিভিন্ন ফুটপাথ, অলিগলিতে জমে উঠেছে ভাপা-চিতাই পিঠা বিক্রি। শীতের সকাল কিংবা সন্ধ্যার পর পরেই ভাঁপা পিঠা বিক্রির দোকানগুলোতে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মালদহপট্রি এলাকার শীতের পিঠা বিক্রেতা আমজাদ হোসেনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিক্রি বেশ ভালোই। তাই তো অনেকেই এ শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

সরজমিন দেখা যায়,দিনাজপুর শহরের মালদহপট্রি,গণেশতলা,মডার্ণ মোড়,জেলরোড,হাসপাতাল মোড়,ষষ্টিতলা,চাউলিয়াপট্রি মোড়,বালুয়াডাঙ্গা মোড়.পুলহাট মোড়সহ বিভিন্ন রাস্তা ও অলি-গলিতে,ফুটপাতে ও মোড়ে মোড়ে বসেছে ভাঁপা ও চিতই পিঠার পিঠার দোকান। শীতের তীব্রতা যতই বাড়ছে, ততই এসব দোকানের বিক্রিও বাড়ছে। বিশেষ করে সকাল আর সন্ধ্যার পরেই জমে উঠে এসব পিঠা বিক্রি। বেশিরভাগ দোকানেই পিঠা বিক্রি করছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরুষরা। অবসর সময় বাড়তি আয়ের জন্য সকাল আর সন্ধ্যায় পিঠা বানানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। নতুন চালের গুঁড়ো ও নতুন খেজুরের গুড় দিয়ে যতœ সহকারে তৈরি করা হয় ভাঁপা পিঠা। পিঠাকে আরো সুস্বাদু করার জন্য নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। ভাঁপা পিঠা ছাড়াও ক্রেতাদের জন্য চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। এসব পিঠা প্রতটি ৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন ১০-২০ কেজি পরিমাণ চালের পিঠা বিক্রি হয়। শীতের ভাঁপা ও চিতাই পিঠার সঙ্গে বাড়তি হিসেবে মরিচ, সরিষা ও ধনেপাতার ভর্তা ফ্রি দেয়া হয়। আবার কেউ কেউ কর্মস্থল শেষ করে ফিরতি পথে পরিবারের সদস্যদের জন্যও পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে,ভাঁপা (ভাকা)পিঠা, তেলের (অন্দশা) পিঠা,নুন (নুনিয়া) পিঠা, পাটি সাপটা পিঠা, চিতই (চিতুয়া),পিঠা,পানি পিঠা সহ নানান বাহারী পিঠা উল্লেখযোগ্য।

নাগরিক ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক সভ্যতার কারণে এখন আর যেমন বারো মাসে তেরো পার্বণ হয় না, তেমনি ইচ্ছে থাকলেও এখন আর মানুষ ঘরে বানানো পিঠা খেতে পারছে না অনেকেই। আর শহরবাসীর এই শীতকালীন রসনা বিলাসে তাই রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে ওঠে বাহারি পিঠার পসরা। দোকানীরা পিঠা বানয়ে স্বাদ মিটায় শহরের মানুষের।তেমনি ধানের জেলা দিনাজপুরের অলিতে গলিতে, মোড়ে মোড়ে জমে উঠেছে এসব শীতের পিঠার দোকান। অফিসগামী কিংবা বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে তাই অনেককেই দেখা যায় পিঠা খেতে। আর শহরবাসীর রসনার তৃপ্তি মেটাতে গিয়ে এক শ্রেণির মানুষের উপার্জন হচ্ছে এখান থেকেই।যা তাদের জীবনযাপনে সাহায্য করে।

শুধু যে কর্মজীবী মানুষরাই এই পিঠা খেয়ে থাকেন, তা কিন্তু নয়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তার ধারের পিঠার দোকানের উপর নিভর্রশীল হয়ে উঠছে দিনকে দিন। তাইতো গাড়ি থামিয়ে রাস্তা থেকে ভাপা কিংবা চিতই পিঠা কিনতেও দেখা যায় অনেককে।

দিনাজপুর শহরের মালদহপট্রি সাধনার মোড় সংলগ্ন পিঠার দোকানে আসা পিঠা ক্রেতা মজিবর রহমান জানালেন,তার স্ত্রী শারমিন বাজারের পিঠা খেতে ভালোবাসেন। তাই তিনি ভাপা পিঠা প্রায়ই কেনেন। তাছাড়া বাড়িতে এখন পিঠা তৈরি করা সম্ভব হয় না। পথের ধারের পিঠাই ভরসা।১৮ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করেন বাস ষ্ট্যান্ড এলাকার মজিবর। তিনি জানান, নারিকেল কুরি ও খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভাপা পিঠা। দামও বেশ হাতের নাগালেই। ভাপা পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন ২ শতাধিক পিঠা বিক্রি হয় তাঁর। দিনে তিনি লাভ প্রায় ৩’শত টাকা। শীত মৌসুমে অনেক গরিব-অসহায় মানুষ মৌসুমী পিঠা বিক্রি করে আয় রোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছেন।