🕓 সংবাদ শিরোনাম

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জনের মৃত্যুচট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ২৫, মৃত্যু ৪সুনামগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে মা ও ছেলেসহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুসৌদি আসতে দিতে হবে করোনা ভ্যাকসিন, নয়তো থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনেএখনো ঈদ করতে বাড়ী আসছে দক্ষিনঅঞ্চলের ২১জেলার হাজার হাজার মানুষকরোনার হটস্পট কেরানীগঞ্জ, ঈদে ছাপ নেই স্বাস্থ্য বিধিরবস্তার দোকানে মাদকের ব্যবসা, দুই জন আটকডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি গ্রেপ্তারভারত থেকে চট্টগ্রামে আসা ৪ জনের করোনা শনাক্ত ত্রিশালে পণ্য বিপনন মনিটরিং কমিটির মতবিনিময় সভা

  • আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

ক্ষমা চাইলেন গোলাম রাব্বানী, ‘স্ক্রিনশট’ দিয়ে তুলে ধরলেন সেদিনের ঘটনা


❏ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

রবিউল ইসলাম, সময়ের কণ্ঠস্বর- গত রোববার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ‘ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা।

এ সময় ডাকসু ভবনে ভিপি নুরকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি সেখানে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নুরুলের সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি কলেজের কয়েকজন ছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

ঘটনার প্রায় ঘন্টা খানিক পর ডাকসু ভবনের সামনে এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ছাত্র সংসদটির সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী। এসময় নুরুল হক নুরকে ডাকসুতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তিনি বলেছিলেন, ‘নুর আহত নাকি মারা গেছে– ডাজ নট ম্যাটার। তাকে আর ডাকসুতে ঢুকতে দেয়া হবে না।’

এদিকে ডাকসু ভিপির উপর ‘বর্বর’ হামলার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যেখানে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, সেখানে ছাত্র সংসদটির একজন জিএস হয়ে রাব্বানীর এমন মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠে।

তবে ঘটনার একদিন পর সুর পাল্টিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক। সেদিন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থেকেই মন্তব্যটি করেছিলেন জানিয়ে তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে এ ঘটনার যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন গোলাম রাব্বানী।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে গোলাম রাব্বানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে মেসেঞ্জারে কথোপথনের দুটি ‘স্ক্রিনশট’ দিয়ে জানান, ভিপি নুর গ্রুপের সাথে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সদস্যদের মারামারি খবর পেয়ে অসুস্থতা নিয়েও ক্যাম্পাসে ছুটে যান তিনি।

ফেসবুকে রাব্বানী লিখেন, আমি চোখের সমস্যার কারণে এক সপ্তাহ বাসাতেই অবস্থান করছি। রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আমাদের ডাকসুর ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ থেকে জানতে পারি, ভিপি নুর গ্রুপের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সদস্যদের মারামারি চলছে।’

‘নুরের সঙ্গে থাকা ৫০-৬০ জন বহিরাগত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকসু ভবনের প্রবেশ গেটে ও ভেতরে অবস্থান নিয়েছে এবং আমাদের ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিয়া তানজিন অর্নী এবং রাইসা নাসের ভেতরে আটকা পড়েছে। স্বভাবতই অজানা আশঙ্কা থেকে আমি অসুস্থতা নিয়েও ক্যাম্পাসে ছুটে যাই। যানযটে বিলম্ব হওয়ায় মারামারি শেষ হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পরে ডাকসুতে পৌঁছাই। ততক্ষণে আমাদের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী স্যার এসে অর্নি ও রাইসাকে উদ্ধার করেন এবং মারামারিতে আহতদের নিজ দায়িত্বে ডিএমসিতে পাঠান।’

সেখানে উপস্থিত কয়েকটি মিডিয়া উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে শুরুতে বলি, ‘আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম না। মারামারির আদ্যোপান্ত আমার জানা নেই। তবে ভিপি নুর হামলা বা ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর কারো সাথে কথা না বলে ৫০-৬০ জন বাহিরাগত এনে যেভাবে ডাকসু ভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং যেখানে যে অরাজকতা হয়েছে, সেগুলো মেনে নেয়া যায় না।’

‘নুর আহত না নিহত মুখ্য না, সে কাউকে না জানিয়ে ডাকসুতে বহিরাগত নিয়ে এসে কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করলো?’ ডাকসুর দুই ছোট বোন অবরুদ্ধ থাকা নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থেকেই মন্তব্যটি করেছিলাম, যা ডাকসুর জিএস হিসেবে আমার বলা উচিত হয় নাই। সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এসময় স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, ‘উক্ত ঘটনায় বরাবরের মতই, ছাত্রলীগকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ও ঢাবির সিনেট সদস‌্য সঞ্জিত চন্দ্র দাস মারামারির কথা শুনে ভিপি নুরকে উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিল। নুরের সহযোগীদের অসৌজন্যমূলক আচরণে ও তীর্যক মন্তব্যে তারা ফিরে আসে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। তবুও যা ঘটছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। উক্ত অনভিপ্রেত ঘটনায় যারা আহত হয়েছে তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাই।’

উল্লেখ্য, ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার মধ্যরাতে পুলিশ বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই দুজন হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য।