🕓 সংবাদ শিরোনাম

কারাগারে বাড়তি নিরাপত্তায় বাবুল আক্তারসাংবাদিক রোজিনাকে হয়রানি ও হেনস্থার প্রতিবাদে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের মানববন্ধনসাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতনের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের মানববন্ধনঝালকাঠিতে জমি নিয়ে বিরোধে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা,আটক-২মাত্র ২০ ঘন্টায় ১০ লক্ষ দর্শক পেল“ তাকে ভালোবাসা বলে” নাটকটিবিয়ের কথা বলে প্রেমিকাকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণভারতে করোনায় একদিনে মারা গেলেন ৫০ চিকিৎসকদেশে বিশেষ অভিযান চালাবে ইন্টারপোলসাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নেওয়া হলো আদালতেতুমুল সমালোচনার মুখে ‘জেরুজালেম প্রেয়ার টিম’পেজ সরিয়ে নিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ

  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

শীতে কাহিল উত্তরের জনপদ


❏ বুধবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে- হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের। শৈত্য প্রবাহ আর বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে শীতজনিত রোগ।নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের আলু ক্ষেত ও বোরো ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন শীতকালীন শাকসব্জি।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আজ বৃধবার দিনাজপুরে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা রয়েছে ৯৮ শতাংশ। বৃহত্তর দিনাজপুরের পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা আজ ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শীতের তীব্রতায় নাকাল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

সূর্যের দেখা মিললেও ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এর পরও বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা। শীত ও শৈত্য প্রবাহে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘরের বের হচ্ছেনা কেউ।সন্ধার পর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে,শহরসহ গ্রামাঞ্চচলের রাস্তা-ঘাট। অন্যদিকে বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। হাড় কাঁপানো শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিও কাহিল হয়ে পড়েছে। হিমেল বাতাসে জবুথবু অবস্থায় মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা গেছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের আলু ক্ষেত ও বোরো ধানের বীজতলা । শীত নিবারণে স্থানীয় ফুটপাথের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। হঠাৎ ঠান্ডার কারণে শীতজনিত রোগের প্রকাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সাজর্ন ডা. আব্দুল কুদ্দুস। বিশেষ করে শিশুরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। জনগনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শীত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির থাকার কারনে শীতে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালগুলোতে পর্দা ও কাপড় দিয়ে বাতাস প্রবেশ রোধ করা হয়েছে। তাপ বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে পর্যাপ্ত লাইটের । তিনি অকারনে শিশুদের নিয়ে বাহিরে না আসা ও বৃদ্ধদের ঘরের মধ্যেই অবস্থান নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। তবে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ও বয়স্করা নিমনিয়া,আমাশয়,ডায়রিয়া,সর্দি,কাশ ও শাষ কষ্টসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো, মাহমুদুল আলম শীত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে বেশকিছু কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়েছে। আরো ৮০ হাজার কম্বল চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।এছাড়াও হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে ওষুধসহ যাবতীয় প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের শীত মোকাবিলায় এ মুহুর্তে শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি,পুলিশ, ট্রাই ফাউন্ডেশন, চ্যানেল আই দর্শক ফোরামসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এভাবে ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মানুষের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ার আশংকা করছেন আবহাওয়াবিদরা।শীতের প্রকোপ থেকে রেহাই পেতে হতদরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষ এই মূহুর্তে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের দাবী তুলেছেন।

এদিকে ঠান্ডার দাপটের অশনি সঙ্কেত ডেকে এনেছে রবি ফসলে। শাকসব্জি চাষেও আশঙ্কা করছে কৃষক। এই সময়ে যে কোনও বীজ রোপন করার পরে অঙ্কুর বের হতে স্বাভাবিকের থেকে বেশি সময় প্রয়োজন হবে। বোরো ধানের বীজতলার আশংকা রয়েছে কৃষকের।