🕓 সংবাদ শিরোনাম

ফুলবাডীতে সামদ্রিক শৈবাল চাষের প্রোজেক্ট পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারপটুয়াখালীতে চাল আত্মসাতের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারসরকার আইন-আদালতকে নিজের সুবিধায় ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে -মির্জা ফখরুলআগুন নিয়ে খেলবেন না: নেতানিয়াহুকে হামাসপ্রধানইসরাইলের চেলসিকে হারিয়ে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন ‘বাংলাদেশের’হামজাপ্রবল বেগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টিকটিকি’রোহিঙ্গা শিবিরে ডাকাতের গুলিতে রোহিঙ্গা নেতা নিহতশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ললকডাউন বাড়ানোর অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রীআল জাজিরার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিলো ইসরায়েল

  • আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

নামাজকে বলনা কাজ আছে, কাজকে বল নামাজ আছে


❏ বুধবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯ ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক- নামায বেহেস্তের চাবি। মিশরের একজন শিক্ষিকার জীবনে ঘটে যাওয়া এক সত্যি ঘটনা বর্ণনা করেছেন তার এক সহকর্মী শিক্ষিকা:
কুরআনের সেই শিক্ষিকা তার স্টুডেন্টদের সবসময় একটা আয়াতের মাধ্যমে নসীহা দিতেন- “হে আমার পালনকর্তা, আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এলাম যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও৷” (সূরা ত্বহা:৮৪)

তিনি এই আয়াত দ্বারা এতই প্রভাবিত ছিলেন যে তিনি যখন কোন জরুরী কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আর এমন সময় আযান শুনতে পেতেন, তিনি এই আয়াতের কথা স্মরণ করতেন৷ হাতের সব কাজ রেখে দিয়ে তিনি আগে তার পালনকর্তার ডাকে সাড়া দিতেন, সালাত আদায় করে নিতেন৷

তিনি তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য অ্যালার্ম সেট করে রাখতেন৷ কখনো অ্যালার্ম বাজছে তবু ক্লান্তিতে চোখ জড়িয়ে গেলে ঐ আয়াতের কথা স্মরণ করে বিছানা ছেড়ে উঠে যেতেন৷

তার হাজব্যান্ড অনেক রাত পর্যন্ত ডিউটিতে থাকতেন৷ এত রাতে এসে যাতে ঠান্ডা খাবার খেতে না হয় তাই স্ত্রীকে ফোন দিতেন তিনি৷

তারপর বাসায় এসে খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে যেতেন৷

একদিন তার স্বামী ‘মাহশি’ খেতে বায়না ধরলেন৷ এটা একটা টাইম কনস্যুমিং রেসিপি যা বানাতে অনেক হাঙ্গামা করতে হয়৷ প্রথমে অনেকরকম স্পাইস দিয়ে রাইসটা কুক করতে হয়, তারপর গ্রেপলিভস দিয়ে সেগুলো মুড়িয়ে ভাপ দিয়ে অথবা ওভেনে বেক করতে হয় এই আইটেম৷

তো সেই কুরআন টিচার তার হাবির জন্য বানাচ্ছিলেন মাহশি৷ তিনটি পাতা মুড়তে তখনো বাকি ছিল৷ সেগুলো মুড়ে ভাপে বসাতে আর মিনিট পাঁচেক লাগতো হয়তো, এমন সময় ‘ইশার আযান হলো৷ তিনি হাতের কাজ অসমাপ্ত রেখেই সালাতের জন্য উঠে গেলেন৷

তার হাজব্যান্ড বারবার কল করেও সাড়া পাচ্ছিলেন না৷ তিনি বাধ্য হয়ে একটু আর্লিই বাড়ি ফিরলেন, দেখলেন আর তিনটা মাত্র মাহশি বাকি ছিল রেডি করতে, তারপর সেটা স্টোভে দেয়া যেত৷ তিনি খুব আপসেট হলেন, বললেন,”খাবারটা চুলায় চড়িয়ে দিয়েও তো নামায পড়া যেত! মোটে তো তিনটাই বাকি ছিল!”

অনেক্ষন বাদেও তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে তিনি কাছে এগিয়ে গেলেন৷ তারপর তাকে সিজদারত অবস্থায় মৃত পেলেন৷

সুবহানআল্লাহ্! তিনি যদি হাতের কাজ শেষ করার অজুহাতে আর পাঁচ মিনিট দেরি করতেন, হয়তো তার মৃত্যু হতো কিচেনে৷

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,”প্রত্যেকটি মানুষ সেই একই হালতে পূণরুত্থিত হবে যেই হালে তার মৃত্যু হয়৷” মুসলিম -২৮৭৮।

তাই ‘সময়ের কন্ঠস্বরের’ সকল সম্মানিত পাঠকদের প্রতি আহবান আসুন আমরা নামাজকে নয় কাজকে বলি আমার নামাজ আছে। ধন্যবাদ।

সময়ের কণ্ঠস্বর/ফয়সাল