‘আমার নাম রাজাকারের তালিকায় আসলে আমিও কষ্ট পেতাম’

৫:০৭ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, নওগাঁ- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, আমি রাজাকারদের তালিকা যাচাই না কইরাই বেআক্কেলের মতো কাম কইরা ফেলছি, এটা বোকামি হয়েছে। আমি দুঃখিত।

তিনি বলেন, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমার নাম যদি রাজাকারের তালিকায় আস্তো আমি যে কষ্ট পেতাম, আমার সহকর্মী ভাইদের নাম যেখানে এসেছে আমি ঠিক একইভাবে কষ্ট পেয়েছি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা নিয়ে আর তালিকা প্রকাশ করা হবে না। নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে উপজেলাভিত্তিক রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভুল করেছি। প্রত্যাহারও করে নিয়েছি। এবার আর ভুল হবে না।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, আগামী জানুয়ারি মাসে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে তালিকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সেই তালিকা আবার যাচাই করার কাজ চলছে। তালিকা প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে জানাতে পারবেন। পুনরায় সেসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামী ২৬ মার্চের আগেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ছবিসহ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতাব্যবস্থা চালু করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আগামী জুলাই মাস থেকে ১৫ হাজার টাকা করার চিন্তাভাবনা চলছে। এ ছাড়া স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে বধ্যভূমিসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নবিজড়িত স্থানের তালিকা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির উপজেলায় উপজেলায় বরাদ্দ পৌঁছে যাবে।

মন্ত্রী দেশের ব্যপক উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার এই ৪৮ বছরে মাত্র ১৯ বছর ক্ষমতায় রয়েছে। এই ১৯ বছরে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। অথচ, বিএনপি জামাত জোট ও অন্যান্যরা ৩০ বছর এ দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলো। তারা এই দীর্ঘ ৩০ বছরে মাত্র ২০ ভাগ উন্নয়ন সাধন করেছে।’