🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

'মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ছাত্রলীগেরই আরেক রূপ'- খন্দকার মোশাররফ

nur
❏ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯ ঢাকা

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূরের উপর হামলার ঘটনায় আলোচিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের সংগঠনটিকে ছাত্রলীগেরই আরেক রূপ বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেছেন, ছাত্রলীগ নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় নতুন করে সমালোচনা এড়াতে এখন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আড়ালে থেকে গুণ্ডামি করছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, তারেক রহমানের অবৈধ সাজা বাতিল এবং ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের উপর পৈচাশিক হামলার প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আজ স্বাধীনভাবে কিছু বললেই গ্রেফতার, নির্যাতন, হত্যা করা হয়। এই ফ্যাসিবাদী সরকারের স্বৈরাচারী আচরণ এখন সারাদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ দিয়ে হামলা-নির্যাতন হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে, তখন নুর’রা আন্দোলন করছে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। ডাকসুর ভিপি নুরের উপর আক্রমণ করা মানে, দেশের গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ করা। নুর’রা বেঁচে আছে বলেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এই ছাত্র সমাজের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশের গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক বলেন, এই সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে কোন লাভ নেই। এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল। এই ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং এই স্বৈরাচার সরকারের পতন হবে।

আওয়ামী লীগের শাসনে দেশে এখন মত প্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই দাবি করেন বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে আজকে অলিখিত বাকশাল শাসন চলছে। তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় দখল করে বসে আছে। বাকশাল প্রতিষ্ঠা করার জন্যেই এই ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে।

“বুয়েটের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন মেধাবী ছাত্র আবরারকে ভারত-বাংলাদেশের চুক্তি সম্পর্কে শুধু একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেউ তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ বা স্বাধীন মতামত প্রকাশ করলেই তাদের হত্যা করা হচ্ছে অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।”

এই অবস্থা পরিবর্তনে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান খন্দকার মোশাররফ।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিমউদ্দিন আলমের পরিচালনায় সমাবেশে ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রব, সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, সাবেক ছাত্র নেতা খোন্দকার লুতফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শহীদুল ইসলাম বাবুল বক্তব্য রাখেন।