‘পাকিস্তান চলে যাও’- মুসলিম যুবকদের উদ্দেশে ভারতের পুলিশ সুপার

❏ শনিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল গোটা ভারত। বিক্ষোভ উত্তপ্ত বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ রাজ্য। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, মুসলিমদের টার্গেট কিলিংয়েরও।

এবার এক পুলিশ কর্মকর্তার সাম্প্রদায়িক মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে এক ভিডিওতে। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের মীরাটের বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

শুক্রবার একটি মুসলিম প্রধান এলাকায় গিয়ে অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করতে শোনা যায় এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে! প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের পরে নতুন করে শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই বিক্ষোভকে সামাল দিতে গিয়েই সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে বসেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে মীরাটের পুলিশ সুপার অখিলেশ নারায়ণ সিং স্থানীয়দের উদ্দেশে বলছেন, ‘দেশে থাকতে ইচ্ছা না করলে পাকিস্তানে চলে যাও।’ তার এই বার্তা ঘিরে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। কীভাবে এ দেশের নাগরিকদের অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে পারেন পুলিশ আধিকারিক, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানায়, ওই ভিডিওতে মূলত মীরাটের পুলিশ সুপার অখিলেশ নারায়ণ সিংকে দেখা গিয়েছে। ওই পুলিশ আধিকারিক একটি রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন। সেখানে ফেজ টুপি পরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন মুসলিম যুবক। বিক্ষোভ প্রশমন করার চেষ্টা করছেন বলেই মনে হতে পারে। তবে তাঁর কথা শুনে রেগে আগুন মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা।

ওই ভিডিওতে শোনা গিয়েছে পুলিশ আধিকারিক বলছেন, “কোথায় যাচ্ছ? আমি এই রাস্তাকে ঠিক করে দেবো।” ওই রাস্তায় জড়ো হওয়া যুবকেরা উত্তর দেন তাঁরা জুম্মাবারে নমাজ পড়তে যাচ্ছেন। পালটা আবার উত্তর দেন পুলিশ আধিকারিক।

তিনি বলেন, “ঠিক আছে। কিন্তু যাঁরা মাথায় কালো এবং নীল কাপড় বেঁধে রেখেছেন তাঁরা পাকিস্তানে চলে যান। থাকবেন এখানে আর গুণ গাইবেন অন্য জায়গার। দেশে থাকতে মন না চাইলে চলে যাও।”

মুসলিম যুবকদের গ্রেপ্তারির হুমকিও দিয়েছেন মীরাটের পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, “বাড়ি থেকে বের করে প্রত্যেককে জেলে ঢুকিয়ে দেব। আমি সকলকে শেষ করে দেব।” ঠিক কী কারণে সকলকে শেষ করে দেওয়ার কথা বললেন ওই পুলিশ আধিকারিক, সে বিষয়ে যদিও এখনও কিছুই জানা যায়নি।

মীরাট পুলিশের দাবি, উত্তরপ্রদেশের ২১টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অশান্তি হয়েছে মীরাটে। পুলিশের আরও দাবি, ওই এলাকায় পুলিশের উপরে বিক্ষোভকারীরা হামলা চালিয়েছে সবচেয়ে বেশি। সিএএ বিরোধী আন্দোলনে শুধুমাত্র মীরাটেই প্রাণ হারিয়েছেন মোট ছ’জন। তাঁদের প্রত্যেকের শরীরে মিলেছে গুলির চিহ্ন। নিহতের পরিজনদের দাবি, নির্বিচারে চালানো পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে ওই বিক্ষোভকারীদের। যদিও পুলিশের পালটা দাবি, বিক্ষোভ দেখানোর সময় বিক্ষোভকারীদের চালানো গুলিতেই মারা গিয়েছেন ওই ৬ জন।

এদিকে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনের জেরে ক্ষুব্ধ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও শুরু করেছে পুলিশ। মোট ৪৯৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে মীরাটে রয়েছে অন্তত ১৪৮ জন। এছাড়াও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ১১৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।