• আজ ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত, ট্রেইণারকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ

❏ রবিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯ বরিশাল
patuakhali

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে দরজা বন্ধ করে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত ও অফিসের ট্রেইণারকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার বেলা ১১ টায় রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ/ছয় জনকে অজ্ঞাত করে রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের ট্রেইণার সানজিদা আক্তার। অভিযুক্তরা হলো উপজেলার কোড়ালীয়া গ্রামের নজরুল হাজীর ছেলে মাহমুদ হাসান, ভূইয়াকন্দা গ্রামের খোকন ভূইয়ার ছেলে বনি আমিন, বাহেরচর গ্রামের আলী আকবর ডাক্তারের ছেলে মনিরুল ইসলাম।

জানা গেছে, কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের অধীনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার আওতায় জেন্ডার প্রোমোটার পদে মরিয়ম স্বর্ণা নামের একজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রভাবশালীরা তদবীর করে। প্রভাবশালীদের তদবীরে স্বর্ণাকে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর যোগদানের দিন শনিবার বেলা ১১টায় আরও দাবী দাওয়া নিয়ে হাজির হয় স্বর্ণার স্বজনরা। দাবী না রাখায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের লোকদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এরপর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা বেগমের অফিসে পাঁচ-ছয়জন বখাটে গিয়ে তার রুম আটকিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। অন্যদিকে মাহমুদ, বনি আমিন ও মনির অফিসের ট্রেইণার সানজিদা আক্তারকে অফিসের দরজা আটকে দিয়ে লাঞ্চিত করে। অভিযুক্ত বনি আমিন স্কুল ছাত্র মহব্বত খুনের মামলার আসামী, মাহমুদ হাসান নারী নির্যাতন মামলার আসামী ও মনিরুল ইসলাম চেক জালিয়াতি মামলার আসামী।

প্রত্যক্ষদর্শী নিতু বেগম, মরিয়ম মালা, অনামিকা, হাসিনুর, পারুল ও চম্পা বেগম জানান, হঠাৎ করে পাঁচ/ছয়জন লোক এসে অফিসের তিনটি দরজা আটকে দেয়। এরপর কর্মকর্তা তাসলিমাকে একটি রুমে ও ট্রেইণার সানজিদাকে অন্য রুমে নিয়ে যায়। রুম আটকে দিয়ে সানজিদাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিতে থাকে তারা। সানজিদা মোবাইল হাতে নিলে তার মোবাইলটিও কেড়ে নেয়। কিছুক্ষণ পরে সানজিদাকে কান্না করতে করতে রুম থেকে বের হতে দেখি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম বলেন, আবেদন না করে ভাইবায় অংশগ্রহন না করে মরিয়ম স্বর্ণা কিভাবে নিয়োগ পেল তা আমি জানিনা।

রাঙ্গাবালী থানা অফিসার ইনচার্জ আলী আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এটি অত্যন্ত দু:খজনক। ভিকটিমকে অভিযোগ করার জন্য বলেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।