🕓 সংবাদ শিরোনাম

একটা কার্ড করে দেনা বাজান, খেয়ে বাঁচি ! ফুলবাডীতে সামদ্রিক শৈবাল চাষের প্রোজেক্ট পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারপটুয়াখালীতে চাল আত্মসাতের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারসরকার আইন-আদালতকে নিজের সুবিধায় ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে -মির্জা ফখরুলআগুন নিয়ে খেলবেন না: নেতানিয়াহুকে হামাসপ্রধানইসরাইলের চেলসিকে হারিয়ে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন ‘বাংলাদেশের’হামজাপ্রবল বেগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টিকটিকি’রোহিঙ্গা শিবিরে ডাকাতের গুলিতে রোহিঙ্গা নেতা নিহতশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ললকডাউন বাড়ানোর অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

হাতিরঝিলে ‌‘মানব কুকুর’ নিয়ে তুলকালাম


❏ রবিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- সম্প্রতি কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে এক পুরুষের গলায় দড়ি বেঁধে নারীকে হাঁটাতে দেখা যায়। ইতিমধ্যে এ নিয়ে শুরু হয়েছে কঠোর সমালোচনা।

জানা যায়, ‘মানব কুকুর’ সেজে রাজধানীর হাতিরঝিলের রাস্তায় যিনি হাঁটছেন তার নাম টুটুল চৌধুরী। সেঁজুতি নামের এক নারী তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সে সময় তাদের কিছু ছবি তোলা হয়। মুহূর্তেই ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ দৃশ্য দেখে অনেকে অবাক বনে গেলেও পরে জানা যায় এটি আসলে পশ্চিমা ধারণার পারফর্মিং আর্টের মঞ্চায়ন।

বলা হচ্ছে, এমন ‘পারফর্মিং আর্ট’ ফ্রম পোর্টফোলিও অফ ডগডনেস প্রথম দেখা গিয়েছিল অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার রাস্তায়, ১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন ভ্যালি এক্সপোর্ট ও পিটার উইবেল এ পারফর্মিং আর্টে অংশ নেন। এ পারফর্মিং আর্টের উদ্দেশ্য হলো, কার্টুনে যেমন বিভিন্ন প্রাণীকে মানুষের মতো কথা বলা ও আচরণগতভাবে দেখানো হয়; তেমনই এখানে মানুষকে প্রাণী চরিত্রে দেখানো হয়।

সম্প্রতি সেই ‘পারফর্মিং আর্ট’ ফ্রম পোর্টফোলিও অব ডগডনেসের পুনরাবৃত্তি ঘটে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায়। এতে অংশ নেওয়া নারী সেঁজুতি একে ‘সমাজতাত্ত্বিক’ ও ‘আচরণমূলক’ কেসস্ট্যাডি বলেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইন্টিং ও ড্রয়িংয়ের শিক্ষার্থী।

সেঁজুতি লেখক ক্লদিয়া স্লানারের লেখাকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘এই ছবিতে একজন নারী একজন পুরুষকে গলায় রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা আরও ভালো কোনো সামাজিক অবস্থার চিত্র দেখায় না। বরং সমাজ আমাদের ওপর যে সিস্টেম চাপিয়ে দিয়েছে সেটাই ফুটে উঠেছে। আমরা যে কাজটা করেছি এই কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং এই কাজটাকে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিয়েছে সেটাই আমরা দেখতে চেয়েছি।’

১৯৬৮ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার রাস্তার সেই দৃশ্য

কিন্তু সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে পারফর্মিং আর্টের ছবি ভাইরাল হয়েছে নেতিবাচকভাবে। সেখানে বলা হচ্ছে, হাতিরঝিলে দেখা গেল মানব কুকুর কিংবা আমাদের সমাজে ঢুকে গেল পশ্চিমা নিম্ন প্রকৃতির সংস্কৃতি।

পুরো বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেঁজুতি, ‘রোগ হইলে যেমন ডাক্তারের কাছে যাওন লাগে কিন্তু তার আগে রোগটা নির্ণয় করতে হয়। এখন পরিচিত রোগের সাথে তো পরিচিত কিন্তু অপরিচিত/অজানা রোগ হইলে কেমনে বুঝবা? এখন আমি অসুস্থ হইলে সেটা কষ্ট দেয় আগে কাকে! আমার পরিবারকে। আর আমরা অসুস্থ হইলে কাকে কষ্ট দেয়!! সমাজকে। তাই সমাজ সুস্থ করতে হইলে আগে আমাদের সুস্থ থাকতে হবে তাই না? তাই আমরা সুস্থ আছি কি না অইটা পরীক্ষা করলাম। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা বুঝে সবাই কিন্তু প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস কেউ মন দিয়ে করে না।’

তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলেছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে ‘Taboo’ অনুষ্ঠান দেখলে হিউম্যান ডগ সম্পর্কে অনেকটা ক্লিয়ার হবেন। সেখানকার একটি এপিসোডে ‘হিউম্যান ডগ’ নিয়ে একটি ডকুমেন্টরি আছে, ইউটিউবে পাবেন। এটি আধুনিক দুনিয়ায় পুরনো ক্রীতদাস প্রথাও বলা যায়। ইউরোপ-আমেরিকায় এসব দেখা যায়। আপনি মানুষ কিনে তাকে দিয়ে যা ইচ্ছে, তা-ই করাতে পারেন। আধুনিক সভ্যতায় এটাকে ‘সাইকো অসভ্যতা’ও বলা যেতে পারে।