নো কমেন্টস: সাঈদ খোকন


❏ সোমবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার দিন গতকাল রোববার বনানীর বাসা থেকে বের হননি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরদেরও তাঁর বাসায় যেতে দেখা যায়নি।

ডিএসসিসির আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাঈদ খোকন। এ জন্য তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেন। তবে দল তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি। ডিএসসিসির মেয়র পদে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপস।

ডিএসসিসির মেয়রের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কর্মদিবসে বেলা ১১টার পরপরই ডিএসসিসির নগর ভবনে নিজ দপ্তরে যেতেন সাঈদ খোকন। কিন্তু গতকাল দলের সমর্থন না পেয়ে তিনি হতাশ।

দিনভর বনানীর বাসায় ছিলেন। তাঁকে সমবেদনা জানাতে পরিবারের সদস্যদের বাইরে অন্য কেউ তাঁর বাসায় যাননি। অথচ গত শনিবার পর্যন্ত তাঁর বাসায় দলীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় লেগে ছিল।

বনানী ১১ নম্বর রোডের একটি ভবনে থাকেন সাঈদ খোকন। গতকাল বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এই বাড়িতে তেমন কাউকে ঢুকতে দেখা যায়নি। বাড়ির সামনে পুলিশ ও আনসারের কিছু সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এ সময় মেয়র সাঈদ খোকনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাঈদ খোকনের একজন কর্মী জানান, মেয়র পদে দলের সমর্থন পাবেন, এ বিষয়ে তাঁর (সাঈদ খোকন) আত্মবিশ্বাস ছিল। গত কয়েক দিন তাঁর বাড়িতে দলীয় নেতা–কর্মী ও কাউন্সিলরদেরও ভিড় ছিল। কিন্তু গতকালের চিত্র ছিল ভিন্ন রকম। তাঁকে সমবেদনা জানাতে ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, কাউন্সিলর, ঠিকাদার—কেউই যাননি।

দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে রোববার রাতে জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

এর আগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যা ভালো মনে করবেন, সেটাই মেনে নেবেন। তাপসকে দলের প্রার্থী ঘোষণার পর এখন সে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন কি না এবং নির্বাচনে তাপসের পক্ষে কাজ করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব প্রসঙ্গে এখন কোনো কথা বলতে চাই না। জাস্ট নো কমেন্টস।

দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নিজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচন করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবেও মন্তব্য করতে রাজি হননি সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, এখন নো কমেন্টস। পরে কথা বলব।

দল থেকে মেয়র প্রার্থী মনোনীত হওয়ায় নিয়ম মেনে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তাপস। সে আসনটি এরই মধ্যে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবেও সাঈদ খোকনের উত্তর, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে চাইছি না। সব পরে জানাব।

সাঈদ খোকন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। তিনি পুরান ঢাকার অন্যতম ব্যক্তিত্ব মাজেদ সর্দারের নাতি। বাবা মোহাম্মদ হানিফের হাত ধরেই সাঈদ খোকন রাজনীতিতে নামেন। তিনি আওয়ামী লীগে নাম লেখান ১৯৮৭ সালে ওয়ার্ড শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। ১৯৯৯ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০৪ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। সর্বশেষ তিনি মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৬ ভোট পেয়ে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ৬ মে তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন।