• আজ ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হরেক মালের ব্যবসায়ী সুমনের জীবন সংগ্রাম

১:১৯ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

মেহেদী হাসান সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর- বাবার মৃত্যুর পর থেকেই দুই ভাই ও প্রতিবন্ধী মাকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন ব্যবসা করলেও গত ৭/৮ বছর যাবত হরেক মালের ব্যবসা করে ভাল আছে। আর এই কারনেই অন্য বিভাগে বাড়ি হলেও ১৩ বছর যাবত মাদারীপুরে বাসা ভাড়া করে হরেক মালের ব্যবসা করছে সুমন হোসেন। সুমন খুলনা জেলার রুপসা থানার ঝাপসা গ্রামের মৃত মালেক হোসেনের ছেলে।

মাদারীপুরের গ্রাম, শহরের অলি-গলিতে সকাল হলেও দেখা যায় ভ্যান গাড়ীতে করে বিভিন্ন হরেক মালের দোকান নিয়ে ঘুরছে আর খুব আগ্রহ নিয়ের এলাকার লোকজন হরেক রকমের মালামালও কিনছে। তবে এই হরেক রকমের মালামাল ক্রয় করা ক্রেতা বেশীর ভাগ মহিলা ও শিশুরা।

আগে মহিলার পরিবারের টুকিটাকি জিনিসপত্র ক্রয় করতে মাসে বা সপ্তাহে একবার পাশ্ববর্তী বাজার অথবা কোন বড় মার্কেটে যেত হতো” এই হরেক মালের দোকান বাড়ীর পাশে আসার কারনে অনেক জিনিসপত্র কিনতে এখন আর বাজারে যেতে হয় না। হরেক মালের দোকানে কাছে গেলেই দেখা যায়, একটি ছোট পরিবারের/ সংসারের জন্য যে সব জিনিসপত্র প্রয়োজন যেমন- ১০টাকার লবনের বাটি থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার ৩৬পিসের ডিনার সেট পযন্ত এই হরেকমালের দোকানে রয়েছে।

রয়েছে শিশুদের বই, খেলনাসহ বিভিন্ন খাবার রাখার জিনিসপত্র। বিক্রির মাঝে মাঝে বিক্রেতা একটি হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে বলছে আসুন আসুন হরেক রকমের মালামাল আপনার পরিবার বা সংসারের জন্য সকল জিনিসপত্র অল্প দামে কিনতে পারবেন।

এরপর আবার কিছুক্ষন পর আবার বলছে টাকা ছাড়াও আপনার পুরানো নস্ট মোবাইল দিয়েও নিতে পারবেন হরেক রকমের জিনিসপত্র। একটি এন্ড্রয়েট নস্ট মোবাইল দিয়ে একটি বড় বালতি পেতে পারেন। নিতে পারেন আপনার পছন্দের জিনিসপত্র। আর এইকথা শুনেই ছুটে বের হচ্ছে বিভিন্ন বাসাবাড়ী ও ঘর থেকে মহিলা ও শিশুরা।

“প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পযন্ত সুমন প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা বিক্রি করেন” এতে ৫-৭ শত টাকা লাভ হয়। যা দিয়ে এখন সুমনের সংসার ভালই চলছে।

হরেক মাল ক্রেতা রাখি হাসান জানান, এই হরেক মালের দোকান বাড়ীর পাশে আসায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। টুকিটাকি কিনতে হলেও বাজারে যেত হতো। সেটা এখন আর যেতে হচ্ছে না। তাছাড়া বাজারের দামের চেয়ে এই ভাসমান দোকানে দামও কম।

হরেক মাল ক্রেতা আইরিন জানায়, আজ আমার ভাইয়ের জন্য একটি খেলনা গাড়ী কিনেছে যানাকি বাজারের দোকানে যেতে হলে সময়, আসার যাওয়ার ভাড়ার টাকা, কিনতেও টাকা বেশী লাগতো। তাই আমি এই হরেক মালের দোকান থেকেই ভাইয়ের জন্য খেলনা কিনলাম।’

হরেক মাল ক্রেতা সালমা জানান, আজও আমি আমার সংসারের জন্য বেশ কিছু জিনিসপত্র কিনলাম, হয়তো এগুলো আগামী দুই মাসেও কেনা হয়তো না। বাসার পাশে আসার কারনেই কেনা হয়ে গেল। ‘দামে যদিও একই তবে সময়, অন্যকাজ নস্ট হলো না।’

হরেক মাল বিক্রেতা সুমন হোসেন জানায়, আমি ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন ব্যবসা করে আসছি। যখন আমার বাবা মারা যায় তখন থেকে মাত্র কয়েকশত টাকা নিয়ে ব্যবসায় আসি। চানাচুর, ঝালমুড়ি, কাচামালে ব্যবসাসহ ১২-১৩ ধরনের ব্যবসা করেছি। আমার ঘরে একজন প্রতিবন্ধী মা রয়েছে। দুই ভাই, আমি আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

সুমন জানায়, আমি গত ১৩ বছর যাবত মাদারীপুরে থাকি, আমি বিভিন্ন গাড়ীতে, লঞ্চে ফেরি করে মালামাল বিক্রি করে সংসার চালিয়েছি। কিন্ত গত ৭-৮ বছর যাবত হরেক মাল বিক্রি করে তার থেকে অনেক ভাল আছি। মাসে নিজ সংসার, মা ও ভাই, সন্তানদের খরচ দিয়ে কিছু টাকাও রাখতে পারছি। তাই এই ব্যবসাই করছি।

সুমন আরও জানায়, আমি বিভিন্ন জেলার এলাকায় ব্যবসা করার জন্য গিয়েছি কিন্ত ‘কোন প্রকার চাঁদা ছাড়া, হয়রানি ছাড়া ব্যবসা করতে পারছি মাদারীপুরে’ মাদারীপুুরের মানুষ একটু শান্তি প্রিয়, অনেক জেলায় হরেক মাল বিক্রি করতে গিয়ে অনেক মহিলারা আমার সাথে অনেক খারাব ব্যবহার করেছে কিন্ত ১৩ বছর যাবত মাদারীপুরে ব্যবসা করছি তেমন কেউ আমার সাথে খারাব ব্যবহার করে নাই।