ভারতে বিক্ষোভ সামলাতে ‘গুরু’র শরণাপন্ন মোদি

⏱ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ 📁 আন্তর্জাতিক
Sadhguru

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নতুন নাগরিকত্ব আইনের পেছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নেই, বিক্ষোভকারীদের তা বোঝাতে সদ্‌গুরুর শরণাপন্ন হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলবার ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ সদ্‌গুরু জগ্গী বাসুদেবের একটি ভিডিও টুইট করেছেন মোদি। এতে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, নয়া নাগরিকত্ব আইন বুঝতে সদগুরুর ব্যাখ্যা শুনুন।

ভিডিওতে সদ্‌গুরু ২০ মিনিটের বেশি সিএএ-র গুণাগুণ ব্যাখ্যা করলেও প্রথমেই বলছেন, ‘আমি পুরো আইন পড়িনি। সংবাদপত্র পড়েছি, যা লেখালেখি হচ্ছে, সেগুলো পড়েছি।’

তবে সিএএ না পড়েই তিনি বলেছেন, ‘এই আইন সব দেশেই রয়েছে। এই আইনের প্রয়োজনে আছে।’

নিজে না পড়লেও ছাত্রছাত্রীদের আইন না পড়েই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য তিরস্কার করতেও ছাড়েননি সদ্‌গুরু জগ্গী বাসুদেব। শিক্ষার্থীদের পাথরের খনির শ্রমিকের সঙ্গে তুলনা করে তার মন্তব্য, ‘সবাই বলছে, পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো পাথরের খনির শ্রমিকের মতো আচরণ করছে। সবাইকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ছে।’

তার দাবি, এতটা প্রতিক্রিয়া হবে বলে সরকারের ধারণা ছিল না, তাই বেশি পুলিশ নামায়নি। ফলে পুলিশই মার খেয়েছে।

সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরুর পর থেকে গোটা দেশে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হয়ে সওয়াল করতে নেমে সদগুরুর যুক্তি, পুলিশ ‘সংযম’ দেখিয়েছে। গোলাগুলি ব্যবহার করেনি। না হলে আরও অনেক বেশি সংখ্যায় মৃত্যু হত। পুলিশের লাঠি চালানোকে কার্যত সমর্থন করে তার মন্তব্য, এক জন পাথর ছুড়েছে, অন্য জন ছোড়েনি। পুলিশের হাতে ভিড়ের মধ্যে দু’জনেই মার খাবে। তরুণ-তরুণীদের এই ভিডিও দেখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

দিল্লিতে সিএএ-র বিরুদ্ধে আন্দোলনের পুরোভাগে থাকা সিপিআই (এমএল) নেত্রী কবিতা কৃষ্ণন বলেন, এ বার প্রধানমন্ত্রী মরিয়া হয়ে রং নাম্বার করে ফেললেন। উনি তো আইনটাই পড়েননি। যারা পড়াশোনা করছেন, সেই ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু যারা লেখাপড়াই করেননি, তারাও বুঝছেন, সিএএ, এনআরসি হলে তারা বিপদে পড়বেন। কবিতার মতে, প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন, আধ্যাত্মিক গুরুদের নামালে শিক্ষিত মানুষের একাংশ প্রভাবিত হবেন। কিন্তু এ বার যাদের থেকে সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তার আশা ছিল, তারাও সমর্থন করছেন না। বলিউডও তো রাস্তায় নেমে পড়েছে।

অন্যদিকে শুধু জগ্গী বাসুদেবের ভি়ডিও টুইট করাই নয়, নিজের একটি টুইটার হ্যান্ডল থেকে ‘#ইন্ডিয়াসাপোর্টসিএএ’ দিয়ে সমর্থনের আবেদন জানিয়ে মোদী লিখেছেন, ‘এই আইন সমর্থন করুন, কারণ এটা অত্যাচারিত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়।’

এছাড়াও নমো অ্যাপ থেকে ‘#ইন্ডিয়াসাপোর্টসিএএ’ টুইটারে প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে। সিএএর পক্ষে প্রচারের জন্য সরকার নানারকম ভিডিও, গ্রাফিক তৈরি করেছে।

সূত্র : আনন্দবাজার।