দেশে চালু হতে পারে পিতৃত্বকালীন ছুটি

❏ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ জাতীয়

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- সন্তান ধারণ ও লালন-পালনের জন্য নারী কর্মীরা বেতন-ভাতাসহ বর্তমানে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়ে থাকেন। মায়েদের মতো বাবারাও ছয় মাস না হলেও ১৫ দিন বা এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি চেয়ে বিভিন্নভাবে আবেদন-নিবেদন করে আসছিলেন।

এরই মধ্যে রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানালেন, বর্তমানে দেশে প্রচলিত মাতৃত্বকালীন ছুটির ন্যায় ভবিষ্যতে পিতৃত্বকালীন ছুটিও চালু করার বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।

সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নবনির্মিত ‘ভিশন গার্ডেন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারিরা যাতে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে পারেন। এজন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে। ভবিষ্যতে মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটিও দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা। তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন-যাপন করতে পারে সেদিকে খেয়াল রেখে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে সরকার। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে সব সরকারি কর্মচারীদের আরো আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জনসেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে সরকারি কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, মানব উন্নয়নসহ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

“মহীয়সী এই নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ উন্নত বিশ্বের বুকে উন্নয়নের এক রোল মডেল। আর এ উন্নয়নের পেছনে দেশের সরকারি কর্মচারীদের অবদান অপরিসীম। উন্নয়নের এধারা অব্যহত রেখে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকারি কর্মচারীদের ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব দিয়েছিল মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টিও ছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব আলাদাভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়। এর এক বছর পর থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর করা হলেও পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।