বর্ষবরণের রাতে স্বামীর সঙ্গে মদপান, ছাদ থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যু


❏ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ইংরেজি নববর্ষ উদ্যাপনের সময় বহুতল ভবনের ছাদ থেকে থেকে পড়ে সুইটি সূত্রধর (৩০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর থানা এলাকার পোদ্দারনগরে। খবর পেয়ে পুলিশ বহুতলের দুটি ভবনের মাঝের ফাঁকা জায়গা থেকে ওই তরুণীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ষবরণের মাঝেই গভীর রাতে একটি মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন বহুতলের বাসিন্দারা। কিন্তু পুলিশ এসে কাউকে খুঁজে পায়নি। পরে সেই বহুতলের দুটি ভবনের মাঝের ফাঁকা জায়গা থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বহুতলের ছাদ থেকে পড়েই মৃত্যু হয়েছে সুইটির। তবে দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা, না কেউ ফেলে দিয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সুইটির স্বামী কুন্তল আচার্যকে জেরা করছে পুলিশ। তাতে কিছু অসঙ্গতিও মিলেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, যাদবপুর পোদ্দারনগর এলাকার ২/২৪ প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের একটি বহুতলের চারতলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন কুন্তল এবং তার স্ত্রী সুইটি।

মঙ্গলবার রাতে ওই বহুতলের পুরনো বাসিন্দারা মিলে ছাদে একটি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানেই গভীর রাত পর্যন্ত মদ খাওয়া, হইহুল্লোড় চলে। তবে ওই পার্টিতে কুন্তল এবং সুইটি যোগ দেননি। পরে ছাদে গিয়ে নিজেদের দিকের অংশে মদ নিয়ে বসেন তারা।

একটা সময় একে একে সবাই নেমে এলেও কুন্তল আর সুইটি সেখানেই ছিলেন। তবে পুলিশের কাছে কুন্তকের দাবি, শরীর খারাপ লাগায় অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে তিনিও নেমে আসেন।

বুধবার সকালে তরুণীর স্বামী কুন্তল পড়শিদের জানান, তিনি স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ফের যাদবপুর থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। ছাদে গিয়ে দেখা যায়, দুজোড়া জুতা পড়ে রয়েছে সেখানে। পড়ে আছে কাচের গ্লাসও। তার পাশেই রয়েছে ছোট্ট চৌবাচ্চার মতো ফাঁকা জায়গা।

ওই ফাঁকা জায়গায় ঢোকার দরজার তালা খুলে পুলিশ দেখে, সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সুইটি। তাকে উদ্ধার করে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

ফরেন্সিক বিভাগ জানিয়েছে, ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার যে চিহ্নগুলো ঘটনাস্থলে মিলেছে, তাতে এটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে বিস্তারিত জানা যাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর।