র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে জাবির ১১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ju
❏ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৭তম ব্যাচের ১১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র হারুন অর রশিদ, মুহাম্মদ মাহাবুবুল আলম, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের এনামুল হক তামিম, মওলানা ভাসানী হলের মো. রাইসুল ইসলাম রাজু, তাওসিফ আব্দুল্লাহ, সালগ্না রেমা, জাকির হোসেন জীবন, মো. মাহাবুবুল আলম, খালেদা জিয়া হলের সারা বিনতে সালাহ, সায়মা লিমা ও ফারিহা বিনতে হক। তারা সবাই সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যায়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় ১১ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া র‍্যাগিংয়ের স্বীকার হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়রদের সেভ করার উদ্দেশ্যে একযোগে যুক্তি করে অতিরঞ্জিত, অসত্য ও ভুল তথ্য পরিবেশনের অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে।

সতর্ক করা দুই শিক্ষার্থী হলো সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নাইম হাসান ও আল ইমরান হোসেন তালুকদার।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবছর যে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে তার পরিপন্থি কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশৃঙ্খলা অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল রাতে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের (৪৮তম আবর্তন) শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নিয়ে নানাভাবে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে দ্বিতীয় বর্ষের (৪৭তম আবর্তন) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগ রেকর্ড করেন। বিভাগের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিতি কম থাকায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, কান ধরিয়ে রাখা, জুতা ছুঁড়ে মারা, মুরগি-ব্যাঙ আকৃতিতে কসরত করানোসহ নানাভাবে নিপীড়নের অভিযোগ করেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।