আমেরিকার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের হুমকি খামেনির

⏱ | শুক্রবার, জানুয়ারী ৩, ২০২০ 📁 আন্তর্জাতিক
kham

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন হামলায় এলিট কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার ঘটনায় আমেরিকার ওপর ‘তীব্র প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন ইরানের সর্ব্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি।

শুক্রবার তাকে উদ্ধৃত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সোলেমানির মৃত্যুতে তিনদিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোকের’ ঘোষণাও দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

খামেনি বলেন, সোলেমানির শহীদ হলেও তার কাজ বন্ধ থাকবে না। কিন্তু, যারা নিজেদের হাতে সোলেমানি ও অন্য শহীদদের রক্ত লাগিয়েছে তারা যেন তীব্র প্রতিশোধের অপেক্ষায় থাকে।

‘শহীদ সোলেমানি প্রতিরোধ সংগ্রামের এক মহান চরিত্র। প্রতিরোধ আন্দোলনে নিবেদিত সবাই এখন সোলেমানির (মৃত্যুর) প্রতিশোধগ্রহণকারী। সোলেমানির মৃত্যু আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ প্রতিহত করতে ইরানকে আরও বেশি দৃঢ় করবে। সন্দেহ নেই, ইরান ও এ অঞ্চলের মুক্তিকামী অন্য দেশগুলো সোলেমানি হত্যার প্রতিশোধ নেবে। তার এ অন্যায্য হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের প্রতিরোধ আন্দোলনের মাত্রা আরও দ্বিগুণ হবে।’

‘সব বন্ধু ও শত্রুদের জানা দরকার, এখন থেকে প্রতিরোধ সংগ্রাম আরও তরান্বিত হবে। আমাদের নিঃস্বার্থ ও প্রিয় জেনারেলের মৃত্যু অবশ্যই বেদনার, কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত বিজয় খুনিদের জন্য হবে আরও বেদনার।’

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এ প্রতিরোধ বাহিনীর বিকাশ এবং ইরানের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল সোলেমানিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ‘বিদেশি শাখা’ হিসেবে কাজ করা কুদস ফোর্স সরাসরি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে জবাবদিহি করতো।

খামেনির ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে ইরাকের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় সোলেমানি নিহত হন বলে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে।

শুক্রবার ভোরে ওই হামলায় সোলেমানির সঙ্গে নিহতদের মধ্যে ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া বাহিনীর নেতৃত্বাধীন হামলা-ভাংচুরের কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সোলেমানিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাল।

ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্প বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন উত্তেজনা শুরু হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; কাশেম সোলেমানির মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করতে সাহায্য করবে বলেও শঙ্কা পর্যবেক্ষকদের।