🕓 সংবাদ শিরোনাম

কর্ণফুলী থানার পাশেই ছুরিকাঘাতে যুবক খুন সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করায়  ‘মিডিয়া এডুকেটরস নেটওয়ার্ক’ এর প্রতিবাদসাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে আমিরাতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভাকক্সবাজারে বিপুল সিগারেটসহ ৩ যুবক আটকরোজিনার সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তাঁদের জেলে পাঠান: ডা. জাফরুল্লাহকেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে যুবতীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারপাটগ্রাম সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে নারী ও শিশুসহ ২৪জন আটকসাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়: ভিপি নুরসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হানিফআর এমন ভুল হবে না: নোবেল

  • আজ বুধবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৯ মে, ২০২১ ৷

দালালদের খপ্পরে রংপুর মেডিকেল, টাকা ছাড়া মেলেনা বেড


❏ শনিবার, জানুয়ারী ৪, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর প্রতিনিধি- প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পাবার। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে বিভিন্ন অনিয়মসহ সীমাহীন দুর্নীতি।

এখানে চিকিৎসা সেবার নামে মানুষকে জিম্মি করে দুনীতি-অনিয়ম ও রোগীর স্বজনদের নিকট অর্থ নিয়ে বেড প্রদানের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মকর্তা ও নার্সসহ কর্মরত আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এক হাজার বেডের উত্তরাঞ্চলের এক মাত্র সর্ববৃহৎ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি হলেও এখানে রোগী থাকে দুই থেকে আড়াই হাজার। এখানে প্রতিদিনেই রংপুর বিভাগের ৮ জেলা থেকে উন্নত চিকিৎসা নিতে আসেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু হয় নানান হয়রানি।

প্রথমে জরুরী বিভাগে ভর্তি হবার সময় সেখানে কমপক্ষে ৫০ টাকা অতিরিক্ত নেয়া হয়। এরপর জরুরী বিভাগ থেকে মুমুর্ষ রোগীদের ষ্ট্রেচারে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে দালালদের দিতে হয় এক থেকে দেড়শ টাকা। এরপর ওয়ার্ডে যাবার পর প্রথমে বেড পাওয়া মানে সোনার হরিণ পাওয়া। মেঝেতে জায়গা পেতে দিতে হয় টাকা, তারপর মিলে বিছানা।

শুধু তাই নয় কম্বলসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিতে টাকা দিতে হয়। এরপর যে ২/১ টা ঔষধ সরবরাহ করা হয় তার জন্যও দিতে হয় টাকা। সব ধরনের পরীক্ষা কোন ভাবেই হাসপাতালে করা হয়না। রোগীদের বেশীর ভাগ টেষ্ট করাতে হয় নগরীর বিভিন্ন ডায়গনষ্টিক সেন্টার থেকে।

সেখানে ওয়ার্ডের নার্স আয়া আর দালালদের দৌরাত্ম বলে দেয়া হয় নিদৃষ্ট তাদের ডায়গনষ্টিক সেন্টারের কথা। বিনিময়ে কমিশন পান তারা। এরপর চিকিৎসা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টাকা ছাড়া কোন কাজই হয়না বলে অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের।

অন্যদিকে হাসপাতালের পরিবেশও নোংরা। রোগীর সাথে আসা স্বজনরাই হাসপাতালে এসে রোগী হয়ে বাসায় ফিরে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওর্য়াডে দেখা মিলে বিড়াল ছানাদের।

ভুক্তভোগীরা জানায়, সরকারি এই হাসপাতালে প্রথমে টাকা ছাড়া বেড মেলেনা, তার উপর আবার দালালদের দালালদের দৌরাত্ম তো আছেই। তাদের কাছে প্রতিনিয়তই হয়রানীতে পড়তে হচ্ছে দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। পুলিশ প্রশাসন ও হাসপাতালের কতৃপক্ষ কোন ভাবেই দমন করতে পাচ্ছেন না দালালদের। বলতে গেলে দালালদের হাতে জিম্মী হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

সরজমিন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে আরো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। দিনাজপুর সদরের রামসাগর থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ফারুক হাসপাতালেই এসেই পড়েন দালালালে খপ্পরে, শুনালেন তার হয়রানীর কথা।

তিনি বলেন, আমার বাচ্চাকে নিয়ে আসার পর একজন বলে আমি ভর্তি করাতে নিয়ে যাচ্ছি আমাকে টাকা দিতে হবে ১শ ৫০টাকা। দেড়শ টাকা দিয়ে ওয়ার্ডে যাওয়ার পর আয়া বলছে ২শ টাকা দেন আমরা আপনাকে বেড দিচ্ছি।

ক্ষোভের সাথে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সর্ম্পকে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলার বোদা থানা থেকে আসা রাহুল জানালেন, আমরা ভাল চিকিৎসা নেয়ার জন্যে এতদূর থেকে আসছি। আমরা তেমন কিছু পাচ্ছিনা এদের কাছে ভাল ব্যবহারও পাচ্ছিনা। হাসপাতাল থেকে আমাদেরকে কিছু দিলে তার দাম নেয় দ্বিগুণ।

অন্যদিকে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থেকে আসা রফিকুল জানালেন, হাসপাতালে রোগীকে কলে করে নিয়ে এসে দাম ঠিক করার পর বেড পেয়েছি। তার আগে হাসপাতালে কোন বেড পাওয়া যায়নি। একই কথা জানালেন উলিপুরের মনোয়ারা বেগম, রংপুরের তারাগজ্ঞের সালেহা বেগমসহ অনেকেই।

সার্বিক বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা, শাহাদৎ হোসেনের সাথে কথা বলার জন্য তার চেম্বারে গেলে তিনি হাসপাতালের অনিয়ম দুনীতির কথা স্বীকার করে সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, এই অভিযোগগুলোর সুষ্পস্ট তথ্য থাকলে একটা একটা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, একবারে যে কোন অভিযোগ নাই তা আমি বলবো না। তবে প্রমাণ পেলে আমি তাদের বিরুদ্ধে একশন নেই।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হাসপাতালে কেউ হয় তো বেআইনি সুবিধা নিয়ে এবং সেখান থেকে লাভবান হয়। এই জন্যে কেউ সুস্পষ্ট তথ্য বা প্রমাণ নিয়ে আসে না। তার পরেও দালালদের দৌরাত্মসহ সার্বিক বিষয়ে নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।