হেফাজতের শাপলা চত্বরের ভিডিও টুইট করে বিপাকে ইমরান

৫:২৫ পূর্বাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ৫, ২০২০ আন্তর্জাতিক
imra

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতীয় পুলিশ মুসলমানদের ওপরে অত্যাচার, আক্রমণ চালাচ্ছে। এই অভিযোগ একটি ভিডিও টুইট করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মূলত ভিডিওটি ছিল ২০১৩ সালের মে মাসে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের।

ভারতীয় বিভিন্ন মিডিয়া ও অনলাইন ব্যবহারকারীরা ইমরান খানের পোস্ট করা ভিডিওটি সম্পর্কে তীর্যক মন্তব্য ও সমালোচনা করতে থাকে। উত্তরপ্রদেশের বলে বাংলাদেশের পুরোনো ভিডিও পোস্ট করার দু’ঘণ্টার মধ্যেই ওই টুইট সরিয়ে দেওয়া হয় ইমরান খানের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে।

ভিডিওটি যে ঢাকার, তার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ঢালে পরিষ্কার লেখা ‘র‍্যাব’। র‍্যাব বা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত এলিট ফোর্স, আর এই নামে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনও দেশে কোনও বাহিনীও নেই। এমন কী, ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কোনও কোনও জায়গায় র‍্যাবের সদস্যদের বাংলাতেও কথা বলতে শোনা যাচ্ছিল।

ভিডিওটি ভুয়া, এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশাল মিডিয়ায় তা ভাইরাল হয়ে যায়। নানা মহল থেকে কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। পোস্টটি টুইটার থেকে মুছে দেওয়ার পরেও সমালোচনা থামছে না।

ভিডিওটি সম্পর্কে উত্তর প্রদেশের (ইউপি) পুলিশও জানিয়েছে এটি তাদের রাজ্যের ঘটনা নয়। ইউপি পুলিশের মতে, এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ২০১৩ সালের মে মাসের ঘটনা।

এর আগে শুক্রবার পাকিস্তানে নানকানা সাহিব গুরুদোয়ারায় আটকে পড়েন পুণ্যার্থীরা। উত্তেজিত জনতা গুরুদ্বারের পুণ্যার্থীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। যার নিন্দা করে ভারত। সে দেশের শিখ পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে আবেদন জানান পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। সে ঘটনার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেইমরান খান ওই ভিডিও ফুটেজটি টুইট করেছিলেন, যেখানে বলার চেষ্টা করা হয়েছিল, ভারতে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়। যে ভিডিওটি পরে মিথ্য বলে প্রমাণিত হয়।

ভারতীয় মিডিয়ার দাবি, ভারতকে অপদস্ত করতে ভুয়া ভিডিওসহ টুইট করে নিজের পাতা ফাঁদে পড়ে অস্বস্তি বাড়ল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর।