ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফরিদপুর ও সিলেটে সংঘর্ষ

৬:০০ পূর্বাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ৫, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
bsl

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সদরপুর ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের পৃথক সংঘর্ষে ২৩ জন আহত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের বিদ্যমান গ্রুপগুলো পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। ছাত্রলীগের রিভারবেল্ট ও স্বাধীন গ্রুপ পৃথক কর্মসূচি উদযাপনের এক পর্যায়ে দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইনার কলেজ রোডে প্রথমে ধাক্কা-ধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে দু’গ্রুপের নেতাকর্মীরা বাকবিতণ্ডা জড়িয়ে পড়লে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দু’গ্রুপের মধ্যে কলেজ রোড ও টিএন্ডটি রোডে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও ইট-পাঠকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন।

আহতরা হলেন ফখরুল ইসলাম, মুরাদ আহমদ, জাকির আহমদ, জুনেদ আহমদ, সালাহ উদ্দিন, জাকারিয়া আহমদ, জাবের আহমদ, মোস্তফা আহমদ, সাইফুদ্দিন হিরা ও আবু সিনা চৌধুরী। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই থেমে থেমে কাজী জাফর উল্যাহ ও সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী সমর্থক দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ থাকায় সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয় সকাল থেকেই।

সকাল ১০টায় সদরপুরের ছাত্রলীগের নতুন কমিটির উপজেলা ছাত্রলীগ এবং একই সময় সদরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে আলাদাভাবে মিছিল বের হয়। উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির নেতৃত্ব দেন সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাজী জাফর উল্যাহ সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফকির আব্দুর ছত্তার। মিছিলে অন্যপক্ষের নেতৃত্ব দেন সদরপুর উপজেলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাঁরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমানের সমর্থক। কাজী শফিকুর ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরীর অনুসারী।

দুই পক্ষের মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের মিছিলটি শহরের হাসপাতাল এলাকার দিকে এগোতে থাকে। একই সময় কলেজ ছাত্রলীগের মিছিলটি উপজেলা ছাত্রলীগের মিছিলের পাশাপাশি যেতে শুরু করে। একপর্যায়ে স্টেডিয়াম এলাকায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশ প্রথমে লাঠিপেটা ও পরে ২৩টি শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্তার ফকির ও যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন এবং পুলিশের এসআই মো. ফরহাদ হোসেন ও কামরুজ্জামান, এএসআই রবিউল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন রয়েছেন।