‘ভারতেও হামলার পরিকল্পনা ছিলো সোলাইমানির’- ট্রাম্প

trump
❏ রবিবার, জানুয়ারী ৫, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং ভারতের নয়াদিল্লিতেও সন্ত্রাসবাদী চক্রান্তে কাসেম সুলেইমানির হাত ছিলো বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার ফ্লোরিডার মার-এ-লেগোতে অবকাশ কেন্দ্রে ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ দাবি করে বলেন, সোলাইমানিকে হত্যার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব শেষ হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, রকেট হামলায় একজন আমেরিকানের মৃত্যু এবং চারজন আমেরিকানের গুরুতরভাবে আহত হওয়াসহ ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর উপর সাম্প্রতিক হামলা, বাগদাদে আমাদের দূতাবাসে সহিংস হামলাও সোলেইমানির নির্দেশেই করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, সোলেইমানি নিরপরাধ মানুষদের মৃত্যুকে তার অসুস্থ কামনায় পরিণত করেছিলেন, নয়াদিল্লি এবং লন্ডন পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদী চক্রান্তে তার অবদান ছিল। আজ আমরা সোলেইমানির বহু অত্যাচারের শিকারদের কথা স্মরণ করছি এবং এটা জেনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি যে তাঁর সন্ত্রাসের রাজত্ব শেষ।

গত ২০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে রাখতে সোলাইমানি কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে তা অনেক আগেই করা উচিত ছিল। প্রচুর প্রাণ বাঁচানো যেত। সম্প্রতি সোলেইমানি ইরানে প্রতিবাদকারীদের উপর বর্বর নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সরকার কর্তৃক সেখানে এক হাজারেরও বেশি নিরীহ মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনা কোনো যুদ্ধ ডেকে আনবে না।

ট্রাম্প বলেন, আমরা যুদ্ধ থামাতে গতরাতেই পদক্ষেপ (সোলাইমানিকে হত্রা) নিয়েছি। যুদ্ধ শুরু করার জন্য আমরা কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। ইরানের জনগণের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। তারা অবিশ্বাস্য ঐতিহ্য এবং সীমাহীন সম্ভাবনার অধিকারী মানুষ। আমরা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছি না।

তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস এবং সোলেইমানির নেতৃত্বে এর নির্মম কুডস ফোর্স শতাধিক আমেরিকান বেসামরিক ও সেনা সদস্যকে লক্ষ্য করে জখম ও হত্যা করেছে।

এর আগে শুক্রবার বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের অভিজাত আল-কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল সোলেইমানি নিহত হন। এই হামলায় ইরাকের শক্তিশালী শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী হাশেদ আল-শাবির উপ-প্রধানও নিহত হন।