• আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

‘এরদোয়ান বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ’- খলিফা হাফতার

erdoan
❏ রবিবার, জানুয়ারী ৫, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লিবিয়ায় তুর্কি সেনা মোতায়েনের অনুমোদনের পর দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার লিবিয়ার বেনগাজি শহরে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার মানুষ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানকে ‘বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ’ আখ্যা দিয়ে আঙ্কারার যেকোনো আগ্রাসন রুখে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে খলিফা হাফতার নেতৃত্বাধীন লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল-ভিত্তিক সরকার।

লিবিয়ায় তুর্কি সেনা মোতায়েনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার তুরস্কের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হওয়ার পর এ প্রতিবাদে শুক্রবার বেনগাজি শহরের রাস্তায় নামে তিন হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা বলেন, এরদোয়ান সরকারের হস্তক্ষেপ রুখে দিতে প্রস্তুত তারা। লিবিয়ায় তুরস্করের নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই বলেও জানা বিক্ষোভকারীরা।

এরদোয়ানকে মানসিক বিকারগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে তুরস্কের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল ভিত্তিক সরকারের প্রধান জেনারেল খলিফা হাফতার। সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তুরস্ক আগুন নিয়ে খেলার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জেনারেল খলিফা হাফতার বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা আমাদের ওপর আগ্রাসন চালাতে চায়। আমাদের দেশের ওপর আক্রামণ চালাতে চায়। আরবসহ পুরো বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমরা বলতে চায়, তুরস্ক যুদ্ধ শুরু করলে পুরো আরবে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। সব রকম পরিণতির জন্য এরদোয়ান দায়ী থাকবেন।’

লিবিয়ায় সেনা মোতায়েনর বিরোধিতা করেছেন খোদ সাধারণ তুর্কিরা। তারা বলছেন, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ কোনোভাবে সঠিক কাজ নয়। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই সহিংসতা আর বিভক্তিতে জর্জরিত লিবিয়ায় গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে দু’টি সরকার। এর মধ্যে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে পরিচালিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। আর দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পরিচালিত জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন অপর সরকারটিকে সমর্থন দিচ্ছে মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, সৌদি আরব,ও ফ্রান্স।

লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী ফয়েজ আল সিরাজের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছ থেকে ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে জেনারেল হাফতারের বাহিনী। এ লক্ষ্যে গত বছরের এপ্রিলে ত্রিপোলি অভিমুখে অভিযান শুরু করলেও গত আট মাসেও সফল হতে পারেনি তারা।